আমাদের প্রায় সবারই একটি ধারনা আছে যে ইন্টারনেটে টাকা উড়ে আর আমরাই সবচেয়ে গরিব। গরিবদের পেছনে বিনা স্বার্থে খরচ করার মতো অন্যদের অনেক টাকা আছে। তাই আমরা না জেনেই আমাদের মূল্যবান সময় ইমেইল পড়া, সার্ভে অংশগ্রহন করার পেছনে খরচ করি। এবং রেফারেল পাবার আশায় অন্যদেরকেও অনুপ্রানিত করি। রেফারেল সাইটের চটকদার বিজ্ঞাপন কিংবা চেক হাতে দন্ত বিকশিত হাসি দেখে টাকা কামানোর স্বপ্নের বিভোর হয়ে যাই, একারনে ওয়েবসাইটগুলোর সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করি না।

ইমেইল পড়া, সার্ভেতে অংশগ্রহন, এ্যাডে ক্লিক করা, এ্যাডসমৃদ্ধ পেজ খুলে বসে রাখা, ফাইল আপলোড, সোশাল নেটওর্য়াকিংয়ে অংশগ্রহন করা – এসব ওয়েবসাইটগুলোর ব্যবসা করার ধরনের প্রায় একই রকম। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সদস্যদের আকর্ষিত করা। আসলে যত সদস্য তারা আকর্ষন করতে পারবে, ততই তাদের লাভ, কারন আর কিছু না হোক পেজ ইমপ্রেশনের কারনে তারা টাকা কামিয়ে নিতে পারবে। কিংবা পপ-আপ বিজ্ঞাপন তো থাকলোই – আপনি কি জানেন যতবার পপ আপ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় কিংবা টুলবারের কল্যানে আটকে যায়, ততবারই ওয়েবসাইটের মালিক পয়সা পায়।
যা বলছিলাম, ওয়েবসাইটগুলো বিজ্ঞাপনে বলে যত তাড়াতাড়ি আপনি তাদের সর্বনিম্ন টার্গেটে পৌঁছাতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি তারা আপনাকে পয়সা পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু এটা বলে না যে প্রায় সময়ই তারা টার্গেটে পৌঁছানোর পর একাউন্ট আপগ্রেড করতে বলে কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য আপনার একাউন্ট বাতিল করে দেবে। এখন একাউন্ট আপগ্রেড করতে হলে আপনাকে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হবে। আপনি আপনার একাউন্টে থাকা টাকা ব্যবহার করতে পারবেন না। এটা কেমন কথা টাকা পেতে হলে টাকা খরচ করতে হবে? আসলে এটাই ওদের ব্যবসা্। আপনার টাকা নেবার পর ওরা আপনার একাউন্ট বাতিল করে দেবে কিংবা আজ দেব, কাল দেব করে মাসের মাস বসিয়ে রাখবে।
তাহলে কি কেউই পয়সা পাচ্ছে না? জ্বি জনতার মুখ বন্ধ করার জন্য তারা ১০ জন সদস্যের একজনকে পয়সা দেয়। তারাই প্রচার করে বেড়ায় যে ওয়েবসাইটগুলো ১০০% জালিয়াতিমুক্ত। আর বাকি নয় জন কখনই পয়সা পায় না। তাদের একাউন্ট হয় বাতিল হয়ে যায় কিংবা মাসের পর মাস টাকা পাবার আশায় বসে থাকে। ওয়েবসাইটের মালিকগুলো খুব ভাল করেই জানে যে টাকা না পাওয়া সদস্যগুলো প্রথম কিছুদিন মেইল করবে, ফোন করার চেষ্টা করবে তারপর চুপ হয়ে যাবে। আর বিজ্ঞাপনদাতাদের দেয়া পুরো অর্থ, পেজ ইমপ্রেশন থেকে পাওয়া পয়সা, সদস্যদের সদস্যপদ আপগ্রেড করার টাকা – সবই তাদের।
বেশির ভাগ ওয়েবসাইটেই কোনো যোগাযোগের ঠিকানা নেই, কিংবা ফোন নম্বর নেই। আবার অনেক সময় দেখা যায় তাদের কোনো ইমেইল এড্রেসও নেই। যোগাযোগের মাধ্যম কেবল টিকেটিং সিস্টেম – একবার টিকেট ইস্যু করলে ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বসে থাকতে হয়।
কোন ওযেবসাইটগুলো স্ক্যাম
আমার পক্ষে একটা একটা করে ওয়েবসাইট ধরে বলা সম্ভব নয় কোনটি ঠিক আর কোনটি স্ক্যাম। তবে আমি একটা কথায় বিশ্বাস করি – ইন্টারনেটে যে টাকা যত সহজে পাওয়া যায়, তা পেতে তত বেশি ঝুঁকি। আমি দুটো ফোরামের নাম জানি যেগুলোতে এধরনের প্রায় সবগুলো ওয়েবসাইট সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে, ফোরামের সদস্যগণ তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। প্রথমটি হলো – www.scam.com এবং www.mylot.com। কোনো ওয়েবসাইট সম্বন্ধে জানতে চাইলে এই ফোরামগুলো ঘুরে দেখতে পারেন – আশা করি সিদ্ধান্ত নেবার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পেয়ে যাবেন।
সবচেয়ে ভাল উপায় হল গুগলে সার্চ দেয়া ওয়েবসাইটের নামের সাথে scam শব্দটি জুড়ে দিয়েই ওই ওয়েবসাইটের আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করতে পারবেন। এছাড়াও আগে একটি পোষ্টে Depacco.com নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম, পোষ্টটির মন্তব্যেও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাবেন।
কোনো ওয়েবসাইটের প্রতি আমার কোনো শত্রুতা নেই, কোনো ওয়েবসাইটের পক্ষ নিয়েও কথা বলতে চাই না। সবাইকে শুধু সর্তক করে দিতে চাই যেন আপনার আপনাদের মূল্যবান সময় মরীচিকার পেছনে খরচ না করে ফেলেন।
সবার জন্য রইল শুভেচ্ছা।
এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:
- হাহাহাহা… আপনার কি মনে হয় এটা থেকে সত্যি সত্যিই টাকা আয় সম্ভব? [স্ক্যাম রির্পোট]
- স্পন্সর্ড পোস্ট লেখার ব্যাপারে সাবধানতা : বিষয়বস্তু মিল রাখুন
- [অতিথি পোষ্ট] ‘ইন্টারনেটে আয় সবার দ্বারাই সম্ভব’
- রুম্মার পোষ্ট নিয়ে জনাব সাগরের কিছু প্রশ্ন আর আমার অবস্থান
- মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন
- সংক্ষিপ্ত নোটিশ : আগামীকাল সন্ধ্যায় আমাদের শেষ আড্ডা
- আরেকটি ব্লগিং আড্ডা কিংবা…
- Depacco.com কি জালিয়াতি সংস্থা?

{ 10 comments… read them below or add one }
অনেক সময় নষ্ট করেছি এদিকে।
If you want to know about the most detected PTC scam site …..
then doya kore visit korun
http://www.ptcsite.com/scamlist/
আমি দুইটা কথা বিশ্বাস করি, জ্ঞান আর টাকা অর্জনের কোনো শর্টকার্ট কোনো পথ নাই
.-= তন্ময় এর সর্বশেষ পোষ্ট >> সম্পাদকীয় =-.
শর্টকাট পথে একদিন-দুইদিন পয়সা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা ভাবনা থাকলে অবশ্যই বেসিক থেকে শুরু করা প্রয়োজন।
আর ভাইয়া দীর্ঘমেয়াদীর জন্য চাই SEO
.-= Masud এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Speed up your firefox with speedyfox – A free remarkable software =-.
এক সময় অন্ধের মতো এসব ঘাটাঘাটি করেছি। তবে আমার সৌভাগ্য সেটা বেশি স্থায়ী হয়নি। যারা এগুলো নতুন জানতে পারে তাদেরকে শত বুঝালেও বুঝে না, এটাই আফসোস। পরে যখন ধরা খায় তখন হায় হায় করে।
অনলাইন আয়কারীদের একটা ব্যাপার ভালোভাবে জানা দরকার_ টান আর্ণ করা অতো সহজ নয়। সে যে পথেই হোক…
অনেক সময় নষ্ট করেছি এদিকে। কিন্তু আমার সৌভাগ্য সেটা অন্যদের তুলনায় খুব কমই। একন যখন কোনো বন্ধু রেফারেন্স লিংক পাঠায় তখন হাসি আসে। কিন্তু তাদের বুঝাতে গেলে উল্টো ভুল বুঝে। কিন্তু আমি জানি তারা নির্ঘাত ধরা খাবে। যেমন আমি…
ধন্যবাদ হাসান ভাই। তবে এরকম লেখার ভালো প্রচার হওয়া প্রয়োজন।
আমি প্রথম দিকে কিছুদিন ট্রাই করেছিলাম
আরেকটা জিনিস যেটা বেশি করে সেটা হলো টাকা পাওয়ার জন্য এমন একটা টার্গেট থাকে যেই টার্গেটে পৌঁছাতে হলে আরেক জীবন লাগবে, এক জীবনে হবে না। কিন্তু সেই টার্গেটটা কখনো প্রচার করা হয় না। ভেতরে কোথাও ছোট্ট করে লেখা থাকে – অনেকটা স্পেশাল অফারের নীচে স্টার চিহ্ণ দিয়ে লেখা “শর্ত প্রযোজ্য”-এর মত। তাই এসব প্রোগ্রাম থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই মঙ্গল।
অনলাইনে রোজগারের চিন্তা করতে হলে ব্লগ কিংবা সাইট বানানোই একমাত্র নিরাপদ এবং সম্ভবপর উপায়। এখানে শ্রম এবং সময় দিলে ফল আসবেই – এবং সেটা গুনিতক হারে। শর্টকাটের কোন উপায় নেই।
ইমেইল পড়া কিংবা সার্ভেতে অংশগ্রহন কখনোই টাকা উর্পাজনের স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। ওইসব কোম্পানির পুরো ব্যবসায়িক কাঠামো দাড়িঁয়ে আছে ঠুনকো ভিত্তির উপর। কেউ কেউ জালিয়াতি ছাড়াই পুরো টাকা দিলেও আমি অবাক হব না।
আমার দৃঢ়বিশ্বাস কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই এভাবে এত কম পরিশ্রমে এত আকর্ষনীয় পয়সা দেয়া সম্ভব নয়।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।