![[অতিথি পোষ্ট] ট্যুইটার এবং ফেসবুক - একটি অতিক্ষুদ্র মূল্যায়ন](http://juhbn.s3.amazonaws.com/wp-content/uploads/2010/01/twitter_facebook.jpg)
ফেসবুক এবং ট্যুইটার অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং সাইট। কিন্তু কেন জনপ্রিয়? কি এদের উপযোগিতা? এইসব সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে আমরা কতটুকু উপকৃত হই এবং কতটুকু সময়ের অপচয় করি? ব্যক্তিগত পর্যায়ে মূল্যায়ন করতে গেলে একটু অন্যভাবে ভেবে দেখতে হবে। বাঙালী খুবই আড্ডাপ্রিয়। সময় যতো এগিয়ে যাচ্ছে, ইন্টারনেট আমাদের জীবনে যতো বেশি করে ঢুকে পড়েছে। সেইসাথে আড্ডার অনেকটাই ধীরে ধীরে পাড়ার রক থেকে চলে আসছিল ইয়াহু কিম্বা এমএসএন মেসেঞ্জারে। সাথে সাথে দূরে থাকা আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথেও সহজেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছিলো। প্রথমে যে ইমেইল অনেক বিষ্ময়ের ব্যাপার ছিল, সেটাই ধীরে ধীরে আড়ালে যেতে থাকলো। দুই ব্যক্তি একই সময়ে অনলাইনে থাকলে চ্যাট করার মাধ্যমে সরাসরি আলাপ সেরে ফেলতে পারছিলো।
এর পরে পরেই আসলো অর্কূট/হাই৫, এবং বেশি সময় নষ্ট না করে এসে গেল ফেসবুক, তারপরেই ট্যুইটার। অন্যান্য আরো রকমফের আছে, আমি সেইসবের দিকে যাচ্ছিনা। এখানে সামান্য একটি তারতম্য হতে দেখা গেল, আগে যে চ্যাট হচ্ছিল চেনাজানা কয়েকজনের মধ্যে, এখন ফেসবুক/ট্যুইটার আসার পরেই অচেনারাও যোগাযোগের তালিকায় স্থান পেলো। অচেনা হলে যাহয় আর কি, তালিকা দিনে দিনে ফুলেফেঁপে উঠলেও তাদের সাথে যোগাযোগ আসলে হয়না খুব একটা। ফেসবুক এবং ট্যুইটার সুবিধা আমরা পেলাম, কিন্তু আমরা অধিকাংশরাই এইগুলিকে ব্যবহার করলাম ফ্রেন্ড তালিকা ভারী করার উদ্দেশ্যে। অনেকের তালিকায় ৫০০, ৮০০, ১০০০ এবং আরোও বেশি কনট্যাক্ট আছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে এর মধ্যে মাত্র ১০% কনট্যাক্টের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়না। তাহলে কেমন নেটওয়ার্ক হল এটা? কাজের নাকি অকাজের নেটওয়ার্ক? এমন নেটওয়ার্ক গড়ার উদ্দেশ্য কি?
ইচ্ছা করলেই আমরা এই সুবিধাগুলিকে অনেক উপযোগী ভাবেই বজায় রাখতে পারি। যেমন, চেনাজানা সকল বন্ধুদের যুক্ত করলাম তালিকায়। এর পরে যারা স্কুলে, কলেজে এবং চাকুরিতে আছেন, তারা সেইখানের পরিচিত বন্ধু এবং শিক্ষকদের যুক্ত করলাম তালিকায়। তাহলে তালিকা ছোট থাকলেও খুবই উপযোগী হল, নয় কি? যাদের সাথে যেমন সম্পর্ক, তেমন জরুরী তথ্যগুলিও আমরা পাব, আবার আড্ডাও চলতে পারে একইসঙ্গে। এর বাইরে বড়জোড় কিছু বাড়তি কনট্যাক্ট যুক্ত করা যায় তাতে ক্ষতি নেই, যেমন পছন্দের চিত্রতারকা কিম্বা গায়ক/গায়িকাকে ফেসবুক/ট্যুইটারে যুক্ত করা যায়। কিন্তু অজানা অচেনাদের যুক্ত করলে ফলাফল স্বরূপ জরুরী মেসেজগুলিই আমাদের নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ট্যুইটার, প্রতি লাইনে একজন ব্যক্তির মেসেজ। ভেবে দেখুন, আপনার আসল চেনাপরিচিতদের সংখ্যা যদি হয় ২৫ আর তালিকায় মোট কনট্যাক্ট যদি করে ফেলেন ৫০০, তাহলে বুঝতে পারছেন? এই ৫০০’র মধ্যে ২৫’এর মেসেজ খুঁজতে গিয়ে কতো ঘাম ছুটে যাবে? কেউ SOS মেসেজ দিলেও আপনি কি তা দেখতে পাবেন? ফেসবুকেও এখন লাইভ ফিড ব্যবস্থা, প্রায় একই রকমের পরিস্থিতি। যদি এটা এড়াতে হয় তাহলে ফ্রেন্ড তালিকা থেকে সকলের আলাদা আলাদা পাতা বের করে পড়তে হবে চেনাজানারা কোনো জরুরী মেসেজ দিলো কিনা।
কি লাভ এমন বিশাল একটি তালিকার? উলটে যন্ত্রণাই বেশি। কিন্তু আজকাল এটাই ফ্যাশান। অনেক সময়েই শোনা যায় ট্যুইটারে নাকি ট্রেন্ড হিসেবে অনেক জরুরী খবর প্রকাশ হতে থাকে। উদ্দেশ্য সেটা হলে ট্রেন্ডিং টপিক দেখলেই তো হয়? আজকাল গুগল এই সুবিধা এনে দিয়েছে, সারাক্ষণ আপডেট দেখাবে তারা। কিন্তু না, আমরা ফেসবুক এবং ট্যুইটার সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছিনা। আমরা একে বিলাসিতার পর্যায়েই রেখেছি। তার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে নিজের ব্লগ/ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক পাওয়ার খেলা। লাভ এতে বেশি হয়না বলেই আমার মূল্যায়ন। গুগল একাই যা ট্র্যাফিক দেয়, তা আর অন্য কোনো সাইটের মাধ্যমেই সম্ভব নয়। আর, ব্যাকলিঙ্ক? খুব প্রয়োজনীয় কি? এই ব্যাপারে পরের লেখায় জানাবো আমার মূল্যায়ন।
এ ধরনের আরও কিছু পোষ্ট:
- [অতিথি পোষ্ট] ডাটাবেজের যত্ন প্রতিদিন | বাঁচতে হলে জানতে হবে
- [অতিথি পোষ্ট] Google region tag উল্লেখ করবে আমাদের ব্লগ কোন দেশের
- [অতিথি পোষ্ট - প্রথম স্থান বিজয়ী - আদনান] আমি কেন সফল ব্লগার হতে চাই?
- [অতিথি পোষ্ট - দ্বিতীয় স্থান বিজয়ী - শামীম] আমি কেন সফল ব্লগার হতে চাই?
- [অতিথি পোষ্ট - তৃতীয় স্থান বিজয়ী - রুম্মা] আমি কেন সফল ব্লগার হতে চাই
- [অতিথি পোষ্ট] ব্লগার হাসান ভাইয়ের আড্ডায় যা কিছু জানলাম…
- [অতিথি পোষ্ট] ব্লগিং করে টাকা আয়ের প্রথম শর্ত : অভ্যাস বদলে ফেলুন
- [অতিথি পোষ্ট] ওয়েব ডিরেক্টরি: সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে উন্নতি ও অধিক ভিজিটর পাওয়ার একটি মাধ্যম
{ 19 টি মন্তব্য… নিচের মন্তব্যগুলো পড়ুন অথবা মন্তব্য করুন }
ভালো পোস্ট। আমার মনে হয় ফ্রেন্ড লিস্টটা কেমন হওয়া উচিত এটা নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেস্যে ব্যবহার করছেন। আপনার যদি প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর ইচ্ছা থাকে তাহলে লিস্ট টা বড় হওয়া জরুরী। কারন আপনার স্ট্যাটাস আপনার প্রোডাক্টকে অনেক বেশী মানুষের কাছে পাঠাবে যদি আপনার ফলোয়ার বেশী থাকে। এটাই স্বাভাবিক। আমি কয়েকদিন আগে আমার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে অজানা সবাইকে ডিলিট করে দিয়েছিলাম। বাট…এখন আমার মনে হচ্ছে যে ….ফ্রেন্ডলিস্ট টা বড় হলেই সুবিধা।
অবশ্য এটা সম্পূর্ন আমার নিজস্ব মত।
ধন্যবাদ।
.-= Shamim এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Mostly Used Textile Chemical In a Textile Industry-Part 1 =-.
টুইটার/ফেসবুক সবই আমার এখানে ব্যানড সো আমার যন্ত্রনাও কম
.-= blues এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Study in Japan: SISF Foundation Scholarship 2010 =-.
কোন দেশে আছেন ভাই???
.-= Shamim এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Mostly Used Textile Chemical In a Textile Industry-Part 1 =-.
স্বাগতম , আপু ।
.-= arifnezami এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Update Status of Multiple Sites from One Place =-.
বিয়া আপু বাংলা হ্যাকস কি আপনার ব্লগ? ফেসবুক এবং টুইটার সম্বন্ধে আপনার মূল্যায়ন যতার্থ এবং উপযোগী এর বেশি কিছু বললাম না।
হাসার ভাই একটা প্রস্তাব দিতে চাই। যদিও এটা আপনার ব্যক্তিগত ব্লগ জানিনা কিভাবে নিবেন। আপনার শেষ অফটপিকে আদনান ভাই তার মন্তেব্যর একটা অংশে বলেছিলো “সম্ভব হলে অতিথি ব্লগারদের প্রতিটি প্রকাশিত লেখার জন্য ছোট অঙ্কের মোবাইল রিফিল…” আমি এই বিষয়টাকে একটু মডারেট করে বলতে চাই। আপনি যদি অতিথি পোষ্ট গুলো রেটিং এর মাঝে এনে নিয়ে একটি নিদিষ্ট রেটিং র্পযন্ত বলে দিতেন যে এই রেটিং র্পযন্ত যদি কোন অতিথি পোষ্ট আসে তবে তার জন্য ১০০/-টাকা মোবাইল রিফিল। যা আমি সব সময় দিতে আমি প্রস্তুত আছি।
.-= Rajibul এর সর্বশেষ পোষ্ট >> How to use excel page setup sheet =-.
না, বাংলা হ্যাকস আমার ব্লগ নয়, আমাকে ওখানে কয়েকটি লেখা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন ওই ব্লগের কর্তৃপক্ষ।
অন্য যে বিষয়টি, সেই ব্যাপারে আমি বলবো যে ‘অতিথি’দের রেটিং করা উচিৎ হবেনা মনে হয়। অতিথির রেটিং করা ব্যাপারটা খুবই স্পর্শকাতর হয়ে যেতে পারে।
আমি রেটিং বিষয়টি থেকে দূরে থাকতে চাই, এতে রেষারেষি বাড়ে। রাজনীতি বাড়ে, লেখার মান কমে যায়।
জি আমিও রেটিং এবং রিফিল ২টার ই বিপক্ষে। লেখার ইচ্ছা এবং যোগ্যতা যার আছে সে এমনিতেই লিখবে। কাউকে মুলো দেখানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতেই ফেইসবুক ব্যবহার করি। আপুর বক্তব্যের সাথে একমত হ্যা অনেকেই অনর্থক ফ্রেইন্ড লিস্ট বিশার বানায়। কোন কাজে আসেনা।
.-= Enameos এর সর্বশেষ পোষ্ট >> “A Reliable Wife” by Robert Goolrick – Book Reviews =-.
ভাল লিখেছেন রিয়া আপু। মোটামুটি সহমত।
.-= রনি পারভেজ এর সর্বশেষ পোষ্ট >> সহজিয়া ফেসবুক : আরো দ্রুত , আরো পেইনলেস =-.
“Social Network” ভাল কিন্তু অপব্যবহার ভাল নয়।
.-= EBRAHIM SHAH এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Electrical current divider rule =-.
একমত
.-= Monir এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Setting up subscriber email newsletter. =-.
রিয়া আপু হাসান ভাইয়ের ব্লগে অতথি লেখক হিসেবে আপনাকে স্বাগতম।আমিও ফেসবুক আর টুইটার দোনটাই ব্যাবহার করি তবে আমি আমার ফেসবুকে শুধু আমার কাছের বন্ধুদের নিয়ে থাকলেও টুইটারে আমি এর ব্যাতিক্রম। আশা করি সামনে আরো লিখা পাবো এই ব্লগে।
Social Media Marketing.আর কিছুই না।
.-= M. R. SOHEL এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Is your Web site/ Blog CO2 Neutral? =-.
আরে রিয়া আপু যে? খুব ভাল লেখসেন।
পুরাই একমত হলাম।
কিছু ছাগোল আছে যারা মেয়ে দেখলেই আড করে বসে। আমার লিস্ট এ মেয়েই নাই।
Sometimes we forget the difference between “Social Network” & “Dating site”. =P
.-= M. R. SOHEL এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Is your Web site/ Blog CO2 Neutral? =-.
না এইটা ডেটিং না। ফ্লাডিং বা ফাজলামো বলা ভালো।
আমি কিছুতেই বুঝি না, এইসব ফেক ফ্রেন্ডশিপ কি আমার ফেসবুক প্রোফাইলের শোভা বাড়ায়?
ভাল বলেছেন।
আশা করি নিয়মিত লিখবেন।
যদিও আমার ফেস বুকে একাউন্ট আছে কিন্তু আমার বন্ধু সংখ্যা লিমিটেড
তাই আমার কোন সমস্যা হয়না।
আসলে কি, ফেস বুকে প্রয়োজন ছাড়া সময় নষ্ট না করে সেই সময়টা ব্লগিং করলেই উপকার বেশী।
.-= কবীর এর সর্বশেষ পোষ্ট >> Free Technique to get more visitor by using Email Newsletter Subscription =-.
টুইটার আমি শুধু একটি কাজেই ব্যবহার করি। আমার কোনো সাইটে পোস্ট দিলে ওটা গুগল ফিডবার্নার থেকে শর্টলিংক হয়ে টুইটার-এ পোস্ট হয়। এতে আমি প্রতিটি পোস্টের বিপরীতে মোটামুটি ৪০/৫০ জন ভিজিটর পাই। এই-ই। বিস্তারিত ইনফরমেশন এবং এর কার্যকরণ লেখার জন্য। ধন্যবাদ।
যাইহোক, হাসান ভাইয়ের ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আমি যতদূর জানি, এডসেন্স সম্পর্কে আপনার ধারণা স্পষ্ট যেহেতু প্রতিমাসেই চেক পাচ্ছেন। আশা করি বিষয়গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করবেন।
.-= পান্থ বিহোস এর সর্বশেষ পোষ্ট >> =-.