স্পন্সর্ড পোস্ট লেখার ব্যাপারে সাবধানতা : বিষয়বস্তু মিল রাখুন

by আমিনুল ইসলাম সজীব on February 23, 2010 · 8 comments

in Niche ব্লগিং,ইন্টারনেটে আয়ের কৌশল

স্পন্সর্ড পোস্ট নিয়ে এর আগেও বেশ কয়েকটি পোস্ট লিখেছি। এগুলো বাংলায় এই ব্লগে এবং ইংরেজিতে আমার ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল। অনেকদিন পর আবারো আমি ফিরে এসেছি পুরনো গল্প নিয়ে। আশা করছি আমার পরিচয় পুনরায় প্রদান করার প্রয়োজন এখনো হয়নি। :)

স্পন্সর্ড পোস্ট কী?

অনেকেই হয়তো জানেন স্পন্সর্ড পোস্ট বা রিভিউয়ের সংজ্ঞা। তবুও সংক্ষেপে মনে করিয়ে দিচ্ছি। স্পন্সর্ড পোস্ট হচ্ছে বিশেষ একপ্রকার পোস্ট যেখানে আপনি নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির (সেটা হতে পারে ওয়েবসাইট বা পণ্য বিক্রেতা) মধ্যকার একটি চুক্তির বিপরীতে বিশেষ একটি পোস্ট আপনার ব্লগে প্রকাশ করবেন। এই পোস্টটি হতে হবে বিজ্ঞাপণদাতা বা সেই কোম্পানির পণ্য বা ওয়েবসাইট সম্পর্কিত খোলামেলা রিভিউ। বেশিরভাগ কোম্পানিই আপনাকে পণ্যের বা ওয়েবসাইটের ভালো-মন্দ উভয় দিক বিবেচনা করে লেখার অনুমতি দিয়ে থাকে। একে সাধারণত এভাবে প্রকাশ করা হয়ঃ “tone +/-” অথবা positive/negative। মূলত আপনি কীভাবে পোস্টটি লিখবেন, কত শব্দের মধ্যে হতে হবে, কতদিনের জন্য পোস্টটি প্রকাশিত থাকতে হবে এবং পোস্টটি যে একটি স্পন্সর্ড পোস্ট, এটা উল্লেখ করতে পারবেন কি না ইত্যাদি সব বিষয়েই চুক্তি সম্পাদিত হয়ে থাকে।

কেউ কেউ আপনাকে পোস্ট লেখার আগেই টাকা দিয়ে দেবে।* কেউ বা আবার পোস্ট প্রকাশের পর তা যাচাইপূর্বক টাকা দিবে। অনেকে আবার পোস্ট প্রকাশের ত্রিশ দিন পরও টাকা দিয়ে থাকে। এসব ব্যাপারে সব কথাবার্তা প্রথমেই সম্পন্ন হয়ে যায়।

স্পন্সর্ড পোস্ট লিখতে সহায়িকা

স্পন্সর্ড পোস্ট লিখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক মাথায় রাখতে হয়। এই লিংকে ক্লিক করে পয়েন্টগুলো বাংলায় এবং এখানে ইংরেজিতে পড়তে পারবেন।

সাবধানতাঃ বিষয়বস্তু মিল রাখুন

এবারে আমরা আসলাম এই পোস্টের আসল বিষয়বস্তুতে। মূল বিষয়ে যাবার আগে চলুন সাম্প্রতিক একটি ঘটনা জেনে আসি।

ক’দিন আগে আমার ইনবক্সে দেখলাম স্পন্সর্ড রিভিউ লেখার জন্য একটি প্রোপোজল এসেছে। সেটা দেখেই খুশিতে এক কাপ চা খেয়ে নিলাম। ;) কিন্তু পরে সেই খুশি আর টিকলো না। কারণ জানেন?

ইমেইলটিতে বিজ্ঞাপণদাতার ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেয়া ছিল। আমাকে তাদের সাইট ঘুরে আসতে এবং আমি তাদের সাইট নিয়ে লিখতে আগ্রহী কি না তা জানাতে বলা হয়েছিল। আমিও তাদের সাইট ঘুরে আসলাম। কিন্তু গিয়ে দেখলাম, এটি একটি গাড়ি বিষয়ক সাইট ছিল। অর্থাৎ, সাইটটিতে মূলত গাড়ি বেচা-কেনা হতো। কিন্তু আমার ব্লগের বিষয় random নয়। তথ্য-প্রযুক্তি এবং ব্লগিংই আমার ব্লগের মূল বিষয়বস্তু। তখন ভেবে দেখলাম, মাত্র দশ ডলারের জন্য (টাকা উল্লেখ করা ছিল ইমেইলে) আমি আমার ব্লগের মূল টপিক থেকে সরে যেতে পারি না। এটা আমার রেডারশিপে আঘাত করবে। পাঠকরা বিরক্ত হবেন। হয়তো অনেকে আনসাবস্ক্রাইবও করে ফেলতে পারেন। কেননা, আমার ব্লগে পাঠক আমাকে দয়া দেখাতে আসেন না, আসেন তাদের নিজের স্বার্থে। হ্যাঁ, কিছু শিখতে, কিছু জানতে এবং নিজেদের মন্তব্য জানাতেই তারা আসেন। তাদের কথা মাথা থেকে ফেলে দিয়ে কাকপক্ষী নিয়ে পোস্ট লেখা শুরু করতে পারি না আমি; যেহেতু আমার পাঠকদের একটি নির্দিষ্ট topic of interest রয়েছে যার কারণে তারা আমার ব্লগে আসেন।

এতসব ভেবে তখন আমি প্রস্তাবটা প্রত্যাখ্যান করলাম। কেননা, আমার কাছে টাকার চেয়ে আমার পাঠকের পছন্দের মূল্য বেশি।

আর ঠিক এই ব্যাপারটাই আমি আজ সবার সঙ্গে শেয়ার করতে পোস্টটি লিখছি। আমার মতে, কিছু টাকার চেয়ে অনেক অনেক বেশি মূল্যবান আপনার অডিয়েন্স। গাড়ি বিষয়ক ওয়েবসাইটটি নিয়ে ২০০-৩০০ শব্দের একটি রিভিউ লিখতে আমার ত্রিশ মিনিট সময় লাগতো কি না সন্দেহ। দশ ডলার পেয়ে যেতাম। টাকা আগেই প্রদান করতো বিজ্ঞাপণদাতা। দশ ডলার = ৭০০ টাকা (প্রায়) = ৩০ মিনিট। বুঝতে পারছেন আমি কেমন একটি সুযোগ হারিয়েছি? বাংলাদেশেও একটি পোস্টের জন্য ৭০০ টাকা দেয়া হয় না। এমনকি পত্রিকাতেও নির্দিষ্ট কিছু আর্টিক্যাল ছাড়া ৭০০-৮০০ বা ১ হাজার টাকা দেয় না। আর যেগুলোর জন্য দেয়, সেগুলো লিখতে প্রচুর খাটতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে গবেষণা চালাতে হয়।

সেখানে মাত্র ৩০ মিনিট কিংবা তারও কম সময়ে ৭০০ টাকা (প্রায়) আয়ের সুযোগ হেলায় ফেলে দেয়াটা সাধারণ দৃষ্টিতে বোকামি মনে হলেও এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমানের কাজ বলেই মনে করি আমি।

আশা করছি আজকের ঘটনা শেষ করার পর এ থেকে শিক্ষা নিতে কারো সমস্যা হয়নি। আরেকটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কারো যদি পোস্টটি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য থাকে, নির্দ্বিধায় তা প্রকাশ করুন। সব ধরনের মন্তব্যই আমি আমন্ত্রণ জানাই; হোক সেটা ইতিবাচক, কিংবা নেতিবাচক। নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া এবং এগুলোর প্রতি ভদ্রভাবে উত্তর দেয়াও একটি বড় গুণ। এবং আমি মনে করি এই গুণটি আমার আছে। যদিও মাঝে মাঝে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে একটু রূঢ় আচরণ করি।

টীকাঃ * আমার জানামতে প্রায় সব কোম্পানিই টাকা পেপালের মাধ্যমে পরিশোধ করে। তাই পেপালে অ্যাকাউন্ট না থাকলে স্পন্সর্ড পোস্ট লিখে লাভ নেই।

অফ-টপিক

আমি গোপনে বেশ কিছু ফিডব্যাক পেয়েছি যেখানে অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন হাসান ভাইয়ের ব্লগে আমি মাতব্বরি করতে আসি কেন। কথাটা শুনে বেশ খারাপ লেগেছে বলে তাদের আমি কোনো উত্তর করিনি। ক্ষোভ প্রকাশকারী সেই ব্যক্তিরা এই পোস্টটি পড়ছেন ধরে নিয়ে তাদের প্রতি আমার জবাব দিচ্ছি। হাসান ভাইয়ের মতো এতো জ্ঞান না থাকলেও এক দিক দিয়ে আমি হাসান ভাইয়ের সঙ্গে নিজের হুবহু মিল রয়েছে বলে দাবি করি। আর সেটা হচ্ছে, হাসান ভাইয়ের মতোই আমিও “Happy to Help” মন-মানসিকতার একজন মানুষ; যদিও বাঙালিদের সাহায্য করে এ পর্যন্ত বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। সেসব কথায় না-ই গেলাম।

স্পন্সর্ড পোস্ট নিয়ে ঘটনাটি ঘটার পর মনে হলো সবার সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ার করি। তখনই আমি এই পোস্টটি প্রকাশ করি এবং তার ক’দিন পর আজ বাংলায় অনুবাদ করে এই ব্লগে প্রকাশ করছি। এই ব্লগে প্রকাশ করার কারণ এটি একটি huge crowd এবং এখানে হাসান ভাইয়ের ব্যক্তিগত অনুরোধেই আমি লিখি। তবুও যদি কারো ক্ষোভ থাকে, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক হাসান ভাইয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান। অন্যের কথা শুনে আমি হাসান ভাইয়ের ব্লগে লেখা বাদ দিতে পারি না। হাসান ভাই পাঠকদের ফিডব্যাক বিবেচনা করে নিজের মুখে বললে এটিই হয়তো আমার শেষ পোস্ট।

সবাইকে ধন্যবাদ এবং আগের পোস্টগুলোয় উৎসাহব্যাঞ্জক মন্তব্য করায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এ ধরনের আরও কিছু পোষ্ট:

{ 8 comments… read them below or add one }

শাওন March 1, 2010 at 12:06 pm

জাহিদ ভাই আপনার কথার সাথে আমি ১০০% একমত।

Reply

blues February 24, 2010 at 11:04 pm

ধন্যবাদ সজীব ভাই। আপনার গুছানো লেখা ভাল লেগেছে।

Reply

জাহিদ February 24, 2010 at 2:17 pm

কারা যে এই মন্তব্য করে আমার মাথায় আসেনা। এ ধরনের হীন মানসিকতা নিয়ে কেনই যে ইনার ব্লগিং জগতে আসেন? এদের এই জগতে স্থান না খুজে বাড়িতে মহিলাদের স্বভাব চরিত্রের মধ্যে স্থান খোজা উচিৎ বলে আমার মনে হয়ে। কারণ এ ধরনের মানসিকতা বাংলার অধিকায়ংশ মহিলাদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়। কেউ কোন বিষয় লিখলে কোথায় তাকে অভিনন্দন জানবো তা না করে তার বিরদ্ধে কথা বলতে শুরু করি দেওয়া কি ভালমানষিকতার লক্ষণ? আপনি লিখে যান আপনা মত করে। এরকম ফিডব্যাক পড়ে মন খারাপ ও সময় নষ্ট না করাই ভাল। ধন্যবাদ।

Reply

Rajibul February 24, 2010 at 12:18 pm

সজীব ভাই। আপনার ” সব ধরনের মন্তব্যই আমি আমন্ত্রণ জানাই; হোক সেটা ইতিবাচক, কিংবা নেতিবাচক” এই বিষয়টির উপর আমি একটু মন্তব্য করার সাহস দেখলাম। আমি সহ আমাদের সবার মাঝে একটা প্রবনতা লক্ষ করা যায় আমরা কেউ সরাসরি নেতিবাচক কিংবা সমাচরামূলক মন্তব্য করতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাই না। সবাই প্রশংসামূলক মন্তেব্যর মাঝে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখি। এই প্রশংসামূলক মন্তেব্যর একটা নেতিবাচক প্রভাব আছে। অতিরিক্ত প্রশংসা মানুষ কে খুব বেশি আত্মতুষ্টি, আত্ববিশ্বাস, এবং নিজের অগোচরেই নিজের প্রতি এক ধরনের অহমিকা তৈরী করে। যা মানুষকে এক সময় ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই সবার প্রতি আমরো অনুরোধ আমি নেতিবাচক বলবোনা, প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনা মূলক, মন্তব্য করুন।

Reply

sam February 25, 2010 at 12:45 am

রাজিব ভাই, অনেক থ্যাকস মন্তবটা জানে। আমিও আপনার সাথে একমত। আর আমি দেখলাম বাঙ্গালী অনেক বেশি, প্রশংসা করে” যার ফলে এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে, যাকে নিয়ে প্রসংশা করা হচ্ছে।

হাসান ভাই এর দৃষ্টি আকষন করছি,
আর গত পোস্টের মন্তব্যর মডারেশন এর সাথে আমি একমত। কিন্তু তার আগে আপনি যদি একটু আমার আগের কিছু মন্তব্য দেখেন, যেখানে আমি কিন্তু কোন গালি বা “বলদ” এই ধরণের কিছু লিখি নাই। প্রথমে কিন্তু আদনান সরাসরি “বলদ” ইসু নিয়ে এসে আপনার ব্লগে হিসু করেছে। উনাকেও আপনার মন্তব্য এর কিছু বলা উচিত ছিলো। দেন, আমি দেখলাম আপনি এই ব্যাপার টা কেয়ার করলেন না, তার প্রতি উত্তর যেরুপ হওয়া উচিত ছিলো, তাই আমি দিলাম।

Reply

জিন্নাত উল হাসান February 25, 2010 at 12:54 am

যা হবার হয়ে গেছে, সব কিছু ভুলে যান। এখন থেকে কোনোরূপ আপত্তিকর শব্দ থাকলেই মন্তব্য প্রকাশিত হবে না।

আশা করি নিয়মিত আলোচনায় অংশ নেবেন এবং একটি সুস্থ পরিবেশ ধরে রাখতে সাহায্য করবেন।

ধন্যবাদ।

Reply

Rafiur February 23, 2010 at 6:56 pm

হুম সজীব ভাই আমি অনেক পেজ রেঙ্ক ৩ সাইটও দেখেছি যে কোন কিছু ছারা এমনিতে তারা কোন স্পন্সর্ড পোস্ট লেখার আমন্ত্রণ পায় না কিন্তু আপনি কয়েকটা পেয়ে গেলেন এতে কি কোনো স্পেশাল কারন বা ট্রিকস আছে? জানাবেন।
আর ভাই সাজ্জাদ ভাইয়ের মতো আমিও বলবো ” সব কথায় কান দিতে নেই “। শুভ কামনা রইল……

Reply

shajjad February 23, 2010 at 6:27 pm

বরাবরের মতই ভাল লাগল।

অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন হাসান ভাইয়ের ব্লগে আমি মাতব্বরি করতে আসি কেন। কথাটা শুনে বেশ খারাপ লেগেছে বলে তাদের আমি কোনো উত্তর করিনি

সব কথায় কান দিতে নেই হা..হা…হা…

Reply

Leave a Comment

Previous post:

Next post: