১৯৯৯ সালের শেষে দিকে আমার হাতে নিজের একটি কম্পিউটার আসে। খুবই অবাক করা জিনিস; যোগ বিয়োগ গুন ভাগ সবই পারে। গান শোনা যায়, গেম খেলা যায়। আমার টাইপ করে প্রিন্টও করা যায়। একসময় বাংলায় প্রেমপত্র টাইপ করতে করতে টাইপটাও আয়ত্ত্বে এসে গেল। যাক সে কথা।
২০০০ সালে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম, কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে। সেখানেই মূলত লিনাক্সের সাথে পরিচয়।
তখন সৈয়দ আকতার হোসেন ছিলেন আমার প্রিয় শিক্ষক। কম্পিউটারের প্রতি তার অনুরাগ আমার খুবই ভাল লাগত। তিনি প্রায় প্রতিদিনই বলতে লিনাক্সের মতো জিনিসই হয় না। এতে হ্যাঙ্গ করে না, এতে ভাইরাস নেই, এটা ফ্রি, এটা ওপেন সোর্স ইত্যাদি ইত্যাদি। যারা উইন্ডোজসহ সব সফটওযারই ফ্রিতে ব্যবহার করে তাদের কাছে লিনাক্সের ফ্রি গল্পের কোনো মূল্য নেই। যাক, তার কথাতেই বেশ কয়েকবার লিনাক্স গিলতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।
তখনকার দিনে লিনাক্স ইনস্টল করাটাই ছিল অনেকটা যুদ্ধ জয়ের মতো। কমান্ড লিখে পার্টিশন বানাও, তাতে লিনাক্স ইনস্টল কর, এমবিআর পরিবতর্ন করে উইন্ডোজকে জায়গা দাও ইত্যাদি ইত্যাদি। আর একটুখানি ভুল হলেই সব শেষ – হার্ডডিস্ক থেকে সব কিছু হাওয়া।
অনেকেই লিনাক্স নিয়ে বড় বড় কথা বলত, বিভিন্ন উপায়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করত। কিন্তু আমি কেন জানি কখনই এক সপ্তাহের বেশি লিনাক্স ব্যবহার করতে পারিনি। কেন জানি লিনাক্সে তৃপ্তিই পেতাম না। আমার সমস্যা হচ্ছে আমি যেটা ব্যবহার করে মজা পাই না, অন্যে আমাকে হাজার রকম যুক্তি দিলেও আমি তা মন থেকে মেনে নেই না। একারনেই হয়তো মজা পেতাম না। আমার কম্পিউটারে কোনো কালেই ভাইরাসের মহামারী ছিল না, পারতপক্ষে কিছুদিন পরপরই কম্পিউটার পরিবতর্ন করেছি বলে দ্রুত চলতো, প্রায় সব সফটওয়ারের কী / ক্রাক আছে – তাই লিনাক্স ব্যবহার কোনো যুক্তি খুঁজে পেতাম না।
গত বছরও কয়েকবার লিনাক্স ব্যবহার শুরু চেষ্টা করেছি, পারিনি।
তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই আবার লিনাক্স ব্যবহার শুরু করতে মন চাইল। অজ্ঞাত কারনে পিসিতে উবুন্তু ইনস্টল হয় ঠিকই কিন্তু কি যেন একটা এরর দেখিয়ে রান করে না। তাই বাধ্য হয়েই ল্যাপটপে ইনস্টল করলাম। দিনের বেশিরভাগ সময়ই আমি ল্যাপটপ ব্যবহার করি, তাই এই তিন সপ্তাহে প্রায় পুরোটা সময়ই কেটেছে উবুন্তুতে। আমি তেমন একটা রকমারী সফটওয়ার ব্যবহার করি না। আসলে ব্যবহারের টাইম পাই না, পুরোটা সময়ই থাকি ইন্টারনেটে তাই ব্রাউজার ছাড়া অন্য সফটওয়ারগুলো লাগে না বললেই চলে।
চলুন দেখি নেই লিনাক্সে কি কি সফটওয়ার ব্যবহার করছি:
ইন্টারনেট ব্রাউজার
গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স এবং অপেরা – তিনটি ব্রাউজারই আছে। উইন্ডোজে ক্রোমই ব্যবহার বেশি হতো, যদিও বাংলা অক্ষর ভেঙ্গে যেত। কিন্তু লিনাক্সে এসে এর উপদ্রব খুবই বেড়েছে, তাই বাধ্য হয়ে ফায়ারফক্স ব্যবহার করছি। আর অপেরা আছে ওয়েবসাইট টেস্ট করে দেখার জন্য।
এফটিপি সফটওয়ার
যেকোনো ওয়েবমাস্টারের জন্য অক্সিজেনের মতো প্রয়োজনীয় – এজন্য ব্যবহার করছি ফাইলজিলা। উইন্ডোজে ব্যবহার করতাম পয়সা দিয়ে কেনা স্ম্যাট এফটিপি। ফাইলজিলাতে একটা সমস্যা আছে, প্রায়ই সোর্সকোডে অতিরিক্ত লাইন গ্যাপ বসিয়ে দেয়। এটা হয়তো কনফিগারেশনে ঠিক করা যেতে পারে, ঘেঁটে দেখা হয়নি।
ইন্টারনেট ম্যাসেঞ্জার
ম্যাসেঞ্জার জিনিসটা খুবই বিরক্তিকর, তবুও মাঝে মাঝে অনলাইনে আসতে হয়। তাই ব্যবহার করছি পিজিন আর স্কাইপ। ভিডিও কনসালটেন্সীর জন্য মূলত স্কাইপ ব্যবহার করি।
ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
অবৈধ সফটওয়ার ব্যবহারের এতদিনের অভ্যাস কি এত সময়ে ঝেড়ে ফেলা যায়, ট্রায়াল ডাউনলোড করে কী-সমেত ইনস্টল করেছি জেন্ড স্টুডিও। চারশো ইউরো খরচ করার সাধ্য আপাতত আমার নেই।
টুইটার টুল
আমি আজ পযর্ন্ত দু’টো টুল ব্যবহার করেছি, টুইটডেক এবঙ সিসমিক। দুটোর মধ্যে টুইটডেকই সবচেয়ে ভাল লেগেছে। কারন এতে টুইটারের পাশাপাশি ফেসবুকও ব্যবহার করা যায়।
ফটো এডিটর
উইন্ডোজে হরেকরকম এডিটর ছিল, এখন উবুন্তুতে আছে পিকাসা আর জিম্প। তবে এসিডিসি আর ফটোশপকে মিস করছি।
টেকনিক্যাল সার্পোট
যেকোনো ধরনের টেকনিক্যাল সার্পোটের জন্য টিমভিউয়ার ফাটাফাটি সফটওয়ার। ভাগ্য ভাল সব ওএস এর জন্য এই সফটওয়ারটি পাওয়া যায়।
টরেন্ট ক্লায়েন্ট
আমার প্রিয় সফটওয়ার হলো বিটটরেন্ট, কিন্তু কোনো কারনে এটি ইনস্টল করতে পারছি না। তাই আপাতত ভিউজ ব্যবহার করছি। ভিউজে প্রচুর অপশন আছে, এবং লোড হতে প্রচুর সময় নেয়। আমার এত ফিচারের প্রয়োজন নেই।
মিডিয়া প্লেয়ার
অবশ্যই ভিএলসি প্লেয়ার, কোনো তর্ক বিতর্ক নেই।
আপাতত এই কয়টি সফটওয়ারই ব্যবহার করছি। আগে হাজারো সফটওয়ার ব্যবহার করে মেশিন ভর্তি করে ফেলতাম, এখন প্রয়োজনীয় সফটওয়ার বাদে সব কিছুই মুছে ফেলি।
লিনাক্স ব্যবহারে কেমন লাগছে
এক কথায় বলব ভাল লাগছে। কেমন জানি একটি নি:ঝঞ্ঝাট একটি প্রশান্তি পাওয়া যায়। আসলে নিজেকে তেমনভাবেই মানিয়ে নিয়েছি। নিজের কাছে মনে হয়েছে লিনাক্স ব্যবহারের জন্য নিজের ইচ্ছাটাই বড়, জোর করে ওপেন সোর্সের ট্যাবলেট খাওয়ানোর দরকার নেই। অহেতুক ভাইরাসের ভয় দেখিয়ে উইন্ডোজকে ছোট করারও দরকার নেই। ভুক্তভোগিরা এমনিতেই বোঝে – মায়ের কাছে মাসীর গল্পের প্রয়োজন নেই।
সাথে থাকুন, ভাল থাকুন।
সবার জন্য রইল শুভ কামনা।
এ ধরনের আরও কিছু পোষ্ট:
- [ছবিব্লগ] পোর্স্টমাউথে সমুদ্রের পাশে কিছুক্ষন আর কিছু ছবি
- এখন জিমেইলেই যেকোনো দেশে ফোন করার সুবিধা… সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে
- [ঘোষনা] যারা আমার নিকট থেকে ডোমেইন কিনেছেন, তারা লক্ষ্য করুন
- যারা হস্তশিল্পের সাথে সম্পৃক্ত, তারা Etsyতে যোগ দিতে পারেন
- আমার নতুন Business Card [ছবি]
- এই সপ্তাহের অফটপিক [০১.০১.২০১০ - ০৭.০১.২০১০]
- এই সপ্তাহের অফটপিক [২৫.১২.২০০৯ - ৩১.১২.২০০৯]
- এই সপ্তাহের অফটপিক [২১.১১.০০৯ - ২৭.১১.২০০৯]
{ 35 comments… read them below or add one }
Hi,
This is such a great resource that you are providing and you give it away for free. I enjoy seeing websites that understand the value of providing a prime resource for free. I truly loved reading your post.
Thanks!
আশা করছি একদিন না একদিন সবাইই লিনাক্সের ছায়াতলে আসতেই হবে। সেদিন আর খুব বেশি দুরে নয়।
শুভ লিনাক্সিং জিন্নাত উল হাসান
আমার ল্যাপিতে একটাই অপারেটিং সিস্টেম- উবুন্টু! উইন্ডোজ ব্যবহার করিনা অ-নে-ক দিন…
যখন থেকে বুঝতে পারলাম যে আমি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করি অর্থাৎ চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করি – সোজা বাংলায় চুরি করি, তখন থেকেই চোরাই উইন্ডোজকে ঝেড়ে ফেলার ইচ্ছাটা মনের মধ্যে নাড়াচাড়া দিয়ে উঠে। তাই উবুন্টু ৬.১০ এর কথা যখন শুনি তখনই উবুন্টুতে চলে যাই। কিন্তু আশপাশে কেউ না থাকায় কিভাবে ব্যবহার করব সেটা নিয়ে সুবিধা করতে পারিনাই, ফলে উইন্ডোজে বাধ্য হয়ে যেতে হয়। পরে আবার চেষ্টা করি নিজের চোর নামটাকে ঘুচিয়ে ফেলার, তবে এইবার সফল হই। অনলাইন কমিউনিটির খোঁজ পাই যারা সাহায্য করতে একপায়ে খাড়া থাকে! এখন তো পুরোপুরি উবুন্টু ভাইরাস, স্পাইওয়ার, এ্যাডওয়্যার- এইসবের ঝামেলা নাই, সফটওয়্যার চুরি করার গ্লানি নাই, একেবারে নির্ঝঞ্জাট কম্পিউটিং!
আপনি মনে হয় কারমিক কোয়ালা ব্যবহার করছেন? ক’দিন আগেই রিলিজ হয়েছে নতুন এলটিএস ভার্সন ল্যুসিড লিংক্স। ল্যুসিড নামিয়ে ব্যবহার করুন, ওটা কার্মিকের চেয়ে অনেক ভালো। কার্মিক হচ্ছে ভিস্তার মত। ভিস্তা যেমন এক্সপির পর ফ্লপ খেয়েছিল সেরকম কার্মিকও জন্টির পর ফ্লপ খেয়েছিল। আর ল্যুসিড হচ্ছে উইন্ডোজ সেভেনের মত, ফ্লপ ভার্সনের পর মারাত্মক হিট (ব্লকবাস্টার হিট যাকে বলে)। ল্যুসিডের রিভিউ পড়তে হলে এখানে দেখতে পারেন।
ধন্যবাদ অভ্রনীল, আমি গত পরশুই ১০.০৪ ব্যবহার শুরু করেছি, ৯.০৪ এর চেয়ে ১০.০৪ অনেক বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলী মনে হচ্ছে। দারুণভাবে উপভোগ করছি। শুধু মাইক্রোসফট অফিসের টান ছাড়া আর লিনাক্সে আপাতত কোনো সমস্যা নেই।
আসলে লিনাক্স ব্যবহার পুরোটা নিজের ব্যাপার। মানুষ উইন্ডোজ ব্যবহার করে কারণ উইন্ডোজে অনেক সফটওয়ার পাওয়া যায় কিন্তু আমরা যতগুলো সফটওয়ার ইনস্টল করি, তার অর্ধেকও ব্যবহার করি না। এই উপলদ্ধিটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আসলে আমাদের মনমানসিকতা দূর করতে হবে। ঘুষকে যেমন আমরা হালাল করে নিয়েছি, তেমনি সফটওয়ার চুরিটাও হালাল হয়ে গেছে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
হাসান ভাই, উবুন্টু তে কিন্তু wine ব্যবহার করে অফিস ব্যবহার করা যায়। পিসি-র কনফিগারেশন ভাল থাকলে মোটামুটি স্মুথলী ই চলে। শুধু বাংলা সাপোর্ট পাওয়া যায় না ঠিক মত।
উবুন্টু ব্যবহার করি প্রায় দেড় বছর। বর্তমানে ল্যাপটপ ডাক্তারখঅনায় আছে।
আমার উবুন্টুতে তো ক্রোম এ বাংলা ফন্ট ভাঙতো না। বরং সবচে আকর্ষনীয় ছিল।
টরেন্ট এর জন্য ট্রান্সমিশন নামে একটা সফ্টওয়ার আছে, যা আমার ব্যবহার করা টরেন্ট ক্লায়েন্ট এর মাঝে সেরা। লাইট এবং কোন অতিরিক্ত ফিচার বা ঝামেলা বিহীন।
আমি কখনো লিনাক্স ব্যবহার করিনি কিন্তু ব্যবহার করতে ইচ্ছে করছে। কি মনে হয় সরকার যত টা দ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ করার কথা ঘোষনা করেছেন তা সম্ভব? অমার তা মনে হয় না। ৮০% লোকের যেখানে প্রযুক্তি সম্বন্ধে ধারনা নেই সেথানে ডিজিটাল বাংলাদেশ? স্বপ্ন দেখা ভাল- কিন্তু স্বপ্ন এমন ভাবে না দেখাটা অরো বেশি ভাল।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন “িডিজটাল” বাংলাদেশ দিয়ে দেখতে হবে বাংলাদেশ সরকার এর এই সাইট টি দেখলেই বোঝা যায় ।
গত বছর এক মাস ব্যবহার করেছিলাম,খুব একটা মজা পাই নি । কেমন যেন মনটা উইন্ডোজের দিকে টানছিল।
আমার সবথেকে বড় ভয় স্পাইওয়ার গুলো, তাই উবুন্টুই(লিনাক্স) ভালো…
এই ব্লগের মেম্বারদের নিকট,
ফ্রী হোস্টিং-ফ্রী ডোমেইন (co.cc) ব্যবহার করে Wordpress দিয়ে কিভাবে ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানাবো এ বিষয়ে পোস্ট দিয়ে থাকলে শেয়ার করুন অথবা এ বিষয়ে পোষ্ট দেবার জন্য অনুরোধ রইল।
যেহেতু আমি এই লাইনে নতুন তাই শুরুতেই ডোমেইন-হোস্টিং এর পেছনে টাকা খরচ করতে চাইছি না। ৫/৬ মাস যাক কিছু SEO শিখি তারপর নাহয় ভাবা যাবে। সাথে ফ্রীতে Wordpress এর স্বাদ উপভোগ করতে চাচ্ছি।
পরবর্তীতে পোস্ট দিলে ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ রইলোঃ shuvo.dac [এড] জিমেইল. কম
ভাই আপনি ইমেইল নিউজলেটার সাবসক্রাইব করে নিন তাহলেই পরবর্তীতে পোস্ট দিলে আপডেট পাবেন , ধন্যবাদ ।
@Shuvo : ভাই বার বার একই অনুরোধ করে লাভ কি? আপনাকে এর আগে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।আপনাকে বেসিক বিষয় জানতে হলে অবশ্যই বই পড়ে/ ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শিখতে হবে।এর আগেও আপনাকে লিঙ্ক দিয়েছিলাম।আর ওয়ার্ডপ্রেস বিষয়ে শিখতে চাইলে গুগলের থেকে বড় বন্ধু নাই।Wordpress Tutorial লিখে সার্চ দিন হাজার হাজার টিউটোরিয়াল পাবেন।ব্লগিং লাইনে হাতেখড়ি নিতে চাইলেও আপনাকে ইংরেজী ব্লগ/বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে।হাসান ভাই/ব্লগের কারো পক্ষেই একদম হাতে ধরে ধরে শেখানো সম্ভব না।তবে আমাদের পান্থ ভাইয়ের ব্লগে আপনার জন্য ভাল রেফারেন্স হতে পারেঃ http://www.wptunes.com/
আবারো বলব গুগলকে কাজে লাগান, অন্যের ব্লগ, ইবুক পড়ুন।আশা করি সব শিখতে পারবেন।
শিখতে হলে নিজে হাতে-কলমে শুরু করে দেয়া ছাড়া আর কোনো কার্যকর উপায় নেই। আমি জুমলা শিখব, শিখতে চাই করে করে বছরখানেক কাটিয়ে দিয়েছিলাম জুমলা কম্পিউটার এ ইন্সটল না করেই আর সাহায্য খুজে খুজে… কিন্তু সত্যি কথা হল আমি এক বছরে যা শিখতে পারিনি তা এক সপ্তাহে শিখেছি লোকালহোস্টে জুমলা ইন্সটল করে।
ওরার্ডপ্রেস ও একইভাবে শিখেছি, আগে লোকালহোস্টে পরে ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেসে সরাসরি। না পারলে টিউটোরিয়ায়ল তো আছেই, তবে শিখতে হলে নিজে নিজে সবচেয়ে বেশি চেস্টা করতে হবে নিঃসন্দেহে।
Thank you bro for ur kind suggestion!!
আদনান ভাই,
আমি নতুন কিনা তাই বিরক্তির কারন হয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন, তবে আমার মনে হয় আপনি একটু ভূল করেছেন।
আমি আগে রিকোয়েষ্ট করেছিলাম blogger দিয়ে ওয়েবসাইট বানানোর টিউটোরিয়ালের জন্য।
আর এবার রিকোয়েস্ট করেছি ফ্রী হোস্টিং দিয়ে wardpress ব্লগ/ ওয়েবসাইট বানানোর টিউটোরিয়ালের জন্য।
আমার ও পছন্দ।
ubuntu দারুন। এটি সবচেয়ে ভালো এবং দ্রুত।
লিনাক্স নিয়ে আগ্রহ এবং অতি আগ্রসের বাড়াবাড়িতে মাতামাতির মানুষের অভাব নেই। ভালো লাগল নিরপেক্ষভাবে নিজের মতটা দেয়ার জন্য।
লিনাক্সের উন্নয়নের জন্য যারা কাজ করে পাইরেটেড সফটওয়্যার আর উইন্ডোজের একচেটিয়া ব্যাবসার বিরুদ্ধে যেতে চায় বলেই করে। আপনার পোস্টটা ভালোই… তবে ঝামেলা হল আপনাদের মত ব্লগারের এ ধরনের পোস্ট অনেক শখের বশে নতুন শুরু করা লিনাক্স ব্যাবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে কারণ, লিনাক্স যারাই ব্যাবহার করে বা করতে শুরু করে অনেক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যাবহার করতে শুরু করে। ঝামেলার কথা আগে শুনলে পিছিয়ে যেতে পারে।
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
রাশেদুল ভাই, আমি হয়তো ঠিকমতো লিখতে পারি নাই। যতগুলো অসুবিধার কথা বলেছি, সবই কিন্তু অনেক আগের কথা। আগে লিনাক্স ব্যবহার বিরক্তিকর ছিল।
এখন উবুন্তু ইনস্টল কিংবা ব্যবহার খুবই সহজ। দেখতেও অনেক সুন্দর আর এক লাইন কোড না লিখেও কাজ চালিয়ে নেয়া যায়। ইনস্টলের সাথে সাথে ড্রাইভার পেয়ে যায় – এজন্য এখন লিনাক্স বিশেষ করে উবুন্তু ব্যবহারকারীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
“এক কথায় বলব ভাল লাগছে। কেমন জানি একটি নি:ঝঞ্ঝাট একটি প্রশান্তি পাওয়া যায়। আসলে নিজেকে তেমনভাবেই মানিয়ে নিয়েছি”
নিজেকে মানিয়ে নেয়াটাই আসল। এখন ইন্সটল এর সাথে সাথে ড্রাইভার পেয়ে যায়… কিন্তু একবার না পেলে যে কি হয় সেটা যারা এই ঝামেলায় পড়েনি তারা ছাড়া বুঝবে না। আমি নিজেই মোবিডাটা মোডেম এর ড্রাইভার না পেয়ে উবুন্টু ছেড়ে দিচ্ছিলাম প্রায়। তবে লিনাক্স ব্যাবহারের মধ্যে একটা ভাব আছে। বন্ধুরা পিসি খুললেই এমন অবাক চোখ নিয়ে তাকায়…
“লিনাক্স ব্যাবহারের মধ্যে একটা ভাব আছে” – ভালই বলেছেন।
তবে যারা “ওএস কি” বোঝে না তাদেরকে উইন্ডোজ আর লিনাক্স বুঝানো শুরু করলে আপনার খবর আছে। তাদের ধারনা কম্পিউটার মানেই বুঝি উইন্ডোজ!
সবারই দেখি কাছাকাছি অবস্থান । আমি কম্পিউটার পাওয়ার পর থেকেই উইন্ডোজ আছি। কখনই অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করিনি। ইদানিং লিনাক্স এর সহজলভ্য হওয়ার কথা শূনে ইচ্ছে হচ্ছে ব্যবহার করার। কিন্তু পারছিনা। আমার অবশ্য নতুন কিছুতে খুব বেশি খারাপ লাগেনা এক দু দিন ব্যবহারের পরেই অভ্যস্থ হয়ে যাই। আমার সমস্যাটা অন্যরকম। আমার বাসা এবং অফিস দুটো জায়গাতেই আমি ছাড়া বাকি সবাই কম্পিউটাররা ব্যবহারে একেবারেই অপটু। একটা ফাইল মিনিমাইস করে রাখলে এরা খুজে বের করতে পারে না। অনেক কষ্ট করে এদের কে কিছুটা উইন্ডোজে অভ্যস্থ করেছি । তাহলে বুঝুন লিনাক্স লাগলে অবস্থা কি দাড়াবে। অপশ্য পাশাপাশি দুটো অপারেটিং লাগানো যেতে পারে। আমার এই বাড়তি বিষয়গুলো একেবারেই পছন্দনা বলে লিনাক্সে যাওয়া হচ্ছে না।
হাসান ভাইয়ের এই পোষ্ট থেকে উবুন্তু ব্যবহারের কিছু সফওয়ার পরিচিত পাওয়া গেলে। একটা প্রশ্ন হাসান ভাই উবুন্তু কোন ভাষার শব্দ। এটাকে সম সময় আমার কেন জানি মনে হয় বাংলা শব্দ।
লিনাক্স এ কাজ শুরু করেছিলাম রেড হ্যাট দিয়ে সেই ৯৯/২০০০। প্রথম বার পুরো হার্ডডিস্ক ই হাওয়া হয়ে গিয়েছিল। তখন Pascal/C ডস বেইজড এডিটরে কাজ করতে গিয়ে লিনাক্স এর এনভায়রনমেন্ট টাকে প্রফেশনাল দের জায়গা বলে মনে হত। কে কমান্ড কত বেশি জানে এটারই একটা রেইস ছিল ল্যাবে।
শেষ বার উবুন্তু নোটবুকে ব্যবহার করেছি তবে কি কারনে জানি সেই প্রথম থেকে লিনাক্সে আমার সাউন্ড কার্ড কাজ করেনি; ডেস্কটপে হয়নি-নোটবুকেও না। এখন উবুন্তু অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি। একগাদা গেইমস, সফটওয়্যার -খুবই ভাল; তবে সমস্যা একটাই যদি ড্রাইভার খুজতে হয়। উইন্ডোজের জন্য যেমন ড্রাইভার এভেইলেবল, উবুন্তু/লিনাক্সের জন্য বোধহয় এখনো তেমন না। অনেকে আবার উবুন্তু/লিনাক্সের জন্য ড্রাইভার ডেভেলপ করে বিক্রি ও করে।
আমার প্রথম লিনাক্স ছিল রেড হ্যাট ৬ – ৫/৬টি সিডি ইনস্টল করতে হতো। সেই তুলনায় উবুন্তু অনেক সহজ – ক্লিক ক্লিক করেই সব কিছু করা যায়। হয়তো এতো ঝামেলার কারনেই লিনাক্স থেকে দূরে থেকেছি।
আমি উইন্ডোজ ব্যবহার করছি। তবে লিনাক্সের প্রতি আগ্রহ আছে। কোন একদিন ইনস্টল করে ফেলবো।
হাসান ভাই, আমার নিচের মন্তব্যটা ফায়ারফক্স আর ক্রোমে ভিন্ন রকম দেখাচ্ছে।নিচের স্ক্রীনশট দেখুনঃhttp://i40.tinypic.com/28tjgr4.jpg
ব্যাপারটা কি?
পোস্টেই তো বললাম, গুগল ক্রোমে বাংলা বর্ণ ভেঙ্গে যায়। ওই কারনেই বোধ হয় হয়েছে।
দূরু…! লেখাটা পড়েই মনটা খারাপ হয়ে গেল।কই ভাবলাম হাসান ভাই বুঝি বলবেন লিনাক্স তার ভাল লাগে নি, আবার উইন্ডোজ এ ফিরে এসেছেন…তা না…যাক গে উইন্ডোজ নিয়ে সুখে আছি।যদিও ইন্টারনেট সার্ফিং ছাড়া পিসিতে কোন কাজই করি না তাও ১৯৯৭ সাল থেকে যে OSটার প্রেমে মজে আছি তাকে সারাজীবন আকরে ধরে রাখতে চাই…
গেমস খেলার প্রতি এত ঝোঁক নেই আর রকমারী সফটওয়ারও প্রয়োজন পড়ে নাই তাই হয়তো লিনাক্স ভাল লাগছে।
প্রথম বার সেটাপ দিতে গিয়ে আমার সাধের একটা ড্রাইভ ফরম্যাট করে ফেলেছিলাম আহারে কতগুলো সফটওয়্যার ছিলো।
কী আশ্চর্য! আমারও একই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিলো। উবুন্তু সেটাপ দিতে গিয়ে পুরা হার্ডডিস্কটাই ফরম্যাট করে ফেলেছিলাম। এতদিনের কত কালেকশন এক নিমিষেই শেষ!
আমি ভয়ে লিনাক্সের আশেপাশেই যাই না।
ট্যাবলেট হিসেবে না খেলেই দেখবেন ভাল লাগবে, কারোও উৎসাহে নয় নিজের ইচ্ছেতেই শুরু করতে পারেন।
রনি ভাই , এটা কি বললেন ??? East or West Ubuntu is the best…..
আমার হাতে প্রথম কমপিউটার আসে ১৯৯২-৯৩ সালে, নিজের ব্যাক্তিগত কমপিউটার পেয়েছি ১৯৯৬’এ। নিজের ঘরে আয়েস করে বসে একলা একলা কমপিউটার নিয়ে পাকামি করার সেই উত্তেজনা মনে আছে আমার। লিনাক্স নিয়ে আমার গল্পটাও অনেকটা এমনই। অনেকবার নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি, ইনস্টল করেছি, এরর ছাড়া চালাতেও পেরেছিলাম। কিন্তু কেমন যেন মনে হলো দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়ে থাকতে হচ্ছে। হ্যাঁ আমি ব্যাপারটাকে এইভাবেই বর্ণনা করবো। উইন্ডোজকে অনেক মিস করেছি। লিনাক্সকে খারাপ বলছিনা একেবারেই। নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারিনি, সেটাই প্রধান কারন, মনে ধরেনি। জোর করে কি আর ভালো লাগানো যায়? উইন্ডোজ’৯৫ দিয়ে যে উত্তেজনার শুরু হয়েছিলো, সেটার আকর্ষণ আজও ঝেড়ে ফেলতে পারিনি।