
আরমাত্র কয়েক ঘন্টা পড়েই যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন শুরু হচ্ছে। এখানে বসবাসকারী সবাই ভোট দিতে পারে, সেই হিসেবে আমিও এখানে ভোটার। কাল ভোট দেব… ইয়াহু!
কেন ইয়াহু বললাম?
এটা আমার জীবনের প্রথম ভোট, ২০০১ সালে নির্বাচনে ভোটার হয়েছিলাম কিনা মনে নাই আর গত নির্বাচনে তো দেশের বাইরে। তাই ভোট দেয়াতে এখনও বউনি হয় নাই। এই দেশেই মূলত ভোটার জীবনের শুরু।
এখানে ভোট আর ভোটের প্রচারণা বাংলাদেশ থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। পুরো বছর বিরোধীদল টুকটাক প্রচারণা চালালেও ভোট হবার একমাস পূর্বে মূল প্রচারণা শুরু হয়। এর অংশস্বরূপ দলের প্রধানগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে যান, লোকজনের সাথে কথা বলেন, কলকারখানা পরিদশর্ণ করেন, তাদের অভাব অভিযোগ শোনেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কোনো মারামারি, কাটাকাটি নেই। নেই কোনো মাইকের উচ্চস্বর, নেই কোনো তোরণ। না দেখলে বিশ্বাস করা সম্ভব নয় যে চারিদিকে কোনো টুঁ শব্দটি পযর্ন্ত নেই। পোষ্টারিং নেই, চিকা মারা হয় না। বাংলাদেশে কি এগুলো ছাড়া নির্বাচণ ভাবা যায়?
এবারের নির্বাচনের মূল আর্কষণ ছিল তিন প্রধান নেতার সরাসরি টিভিতে বিতর্ক – যা প্রচুর জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শেষের বিতর্কটি ৯ মিলিয়ণ লোক সরাসরি দেখেছে, তারমধ্যে আমিও একজন।
আমি বাংলাদেশের রাজনীতি ঘৃণা করি আর রাজনীতি বোঝবার চেষ্টাও করিনি। যাহোক, যদিও সাংসদকে জনগনের টাকায় আয়েশের ফলে প্রচুর বদনাম হয়েছে, তারপরেও আমার মনে হয়েছে হাজার অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও লেবার পার্টি দেশকে এগিয়ে নিতে পেরেছে। লেবার বরাবরই বিদেশিদের প্রতি উদারপন্থী অন্যদিকে কনজারভেটিভরা তো বলেই দিয়েছে তারা বিদেশিদের আসা বন্ধ করে দেবে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্রেটরা বিদেশিদের বৈধতা দেবার লোভ দেখিয়ৈ বেশ সুবিধাজনক স্থানেই আছে। নির্বাচনের আগে চালানো সব জরিপই বলছে যে এবারের নির্বাচনে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে কোয়ালিশনের সরকার গঠিত হবে। আর এটা হলে লিব-ডেম আর লেবার একত্রে সরকার গঠন করতে পারে।

যাহোক, প্রতিটি দলই প্রচুর আশার বানী শোনাচ্ছে, তবুও কেন জানি মনে হয়েছে লেবার ছাড়া অন্য কোনো দলই দেশকে টিকিয়ে রাখতে পারতো না। যেখানে গ্রীস, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড অর্থনৈতিক মন্দায় এখন ডুবে আছে, সেখানে যুক্তরাজ্যের জিডিপি ধনাত্মকের দিকে ধাবমান।
আলোচনা থেকেই বুঝতে পারছেন, আমি লেবারকে ভোট দেব। ভোট দিতে ভোটার কার্ড লাগে না, প্রতিবছর ভোটার লিস্ট আপডেট হয়, লিস্টে নাম যোগ দিয়ে দিলেই চলে। কাল সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভোট চলবে। ভোট উপলক্ষ্যে কোনো ছুটি নেই। যে যার সুবিধামতো সময়ে গিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হয়ে নাম ঠিকানা বললেই ভোট দেয়া যাবে। আগামীকাল অফিস শেষে বাসায় এসে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব, খুবই কাছে একটা স্কুলে ভোট কেন্দ্র বসেছে। কাছে বলতে খুবই কাছে, হেঁটে যেতে মাত্র ২ মিনিট লাগবে
আহারে কবে যে আমাদের দেশে এমন সংস্কৃতি গড়ে উঠবে!
সাথে থাকুন, ভাল থাকুন।
শুভ কামনা রইল সবার জন্য।
এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:
No related posts.

{ 25 comments… read them below or add one }
এমন সংস্কৃতি আমাদের দেশে আদৌ হবে কিনা সন্দেহ।
আমি বাংলাদেশের রাজনীতি ঘৃণা করি আর রাজনীতি বোঝবার চেষ্টাও করিনি। …আপনার এই কথার আমি সম্পন দ্বিমত পোষন করছি।
হাসান ভাই অন্য একটি প্রসঙ্গে কথা বলি, আজ http://www.amadershomoy.com site এ ডুকে দেখি বাংলা site এ google Ad. এটা কিভাবে হলো ? বাংলা site এ Google Ad সাপোট করলো কিভাবে ?
গুগল এডসেন্সের ব্যবহারবিধি মোতাবেক বাংলা সাইটে এডসেন্স ব্যবহার করা যাবে না। এখন আপনি যদি ব্যবহার করেন কিংবা ‘আমাদের সময়’ ব্যবহার করে, তাহলে সেটা তাদের ব্যাপার, রিস্ক তো অবশ্যই আছে। গুগল এডসেন্স ওই পত্রিকায় কাজ করছে, কারণ এডসেন্সের কোড আইফ্রেমের মাধ্যমে বাংলা অক্ষর থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে।
মাত্র এক মাসের জন্য গত নির্বাচনে ভোট দিতে পারি নাই।
ভোট শব্দটা শুনলেই চোখে ভাসে… অমুক ভাই কে তমুক মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ দিন…
কখনই গনতন্ত্র আমার কাছে ভাল লাগে নাই। সব কিছুতে কি গনতন্ত্র খাটে? চাকরী করতে গেলে দেখে যোগ্যতা, পরীক্ষার রেজাল্টটা হয় যোগ্যতায়, যে কোন কাজের দায়িত্বটা দিতে গেলে যোগ্য ব্যক্তিকেই দেয়া হয়। আর দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গনতন্ত্র কেন? পৃথিবীর সব বিপ্লবই যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা হয়েছে…। এখন কথা হলো যোগ্যতার ভিত্তিতে যে জনগোস্টি তাদের নেতা নিবার্চিত করতে পারবে তাদের ক্ষেত্রে গনতন্ত্র সুফল বয়ে আনতে পারবে। এখানে আরও একটি বেপার জরিত আছে-যোগ্য নেতা সৎ কিনা? একটি কাজে দায়িত্ব দিবেন কাকে-ধরুন একজন্য কাজটি করতে পারবে তবে সে অসৎ কিন্তু কাজটি করতে পারবে, আরেকজন সৎ কিন্তু কাজটি করতে পারবে না?
ফখরুদ্দিনের সরকার কিভাবে দেশ পরিচালনা করার, আটকোটি ভোটারের তালিকা করার, শাসন বিভাগকে বিচার বিভাগ থেকে আলাদা করা সহ অনেকেকেই বিচারের সম্মুক্ষিন করলো? ভোটের জন্য যাদের জনগনের মুখাপেক্ষি হতে হয়, তাদের পক্ষে কি অপরাধী জনগনকে কঠোরভাবে শাসন করা সম্ভব?
——————
একটু আবেগাপ্লুতই হয়ে গেছিলাম। আমিও ভোটার কার্ড পাওয়ার জন্য ভোটার হয়েছিলাম-ভোট দেয়ার জন্য নয়। নির্বাচন সফল হোক।
সম্ভবত National ID card, ভোটার কার্ড না।
কখনই গনতন্ত্র আমার কাছে ভাল লাগে নাই। সব কিছুতে কি গনতন্ত্র খাটে? চাকরী করতে গেলে দেখে যোগ্যতা, পরীক্ষার রেজাল্টটা হয় যোগ্যতায়, যে কোন কাজের দায়িত্বটা দিতে গেলে যোগ্য ব্যক্তিকেই দেয়া হয়। আর দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে গনতন্ত্র কেন? পৃথিবীর সব বিপ্লবই যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা হয়েছে…। এখন কথা হলো যোগ্যতার ভিত্তিতে যে জনগোস্টি তাদের নেতা নিবার্চিত করতে পারবে তাদের ক্ষেত্রে গনতন্ত্র সুফল বয়ে আনতে পারবে। এখানে আরও একটি বেপার জরিত আছে-যোগ্য নেতা সৎ কিনা? একটি কাজে দায়িত্ব দিবেন কাকে-ধরুন একজন্য কাজটি করতে পারবে তবে সে অসৎ কিন্তু কাজটি করতে পারবে, আরেকজন সৎ কিন্তু কাজটি করতে পারবে না?
ফখরুদ্দিনের সরকার কিভাবে দেশ পরিচালনা করার, আটকোটি ভোটারের তালিকা করার, শাসন বিভাগকে বিচার বিভাগ থেকে আলাদা করা সহ অনেকেকেই বিচারের সম্মুক্ষিন করলো? ভোটের জন্য যাদের জনগনের মুখাপেক্ষি হতে হয়, তাদের পক্ষে কি অপরাধী জনগনকে কঠোরভাবে শাসন করা সম্ভব?
ভাই এই পর্যন্ত বাংলাদেশে আমি কোন ৮০ % শৎ ও ৮০ % যোগ্য প্রতিনিধি দেখি নাই। সুতরাং বাংলাদেশের জন্য মনে হয় না গনতন্ত্র শব্দটা মানায়।
ইনশাল্লাহ একদিন বাঙলাদেশেও এরকম শান্তিপূর্ণ ভোট হবে।তবে আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এদেশের মানুষ সচেতন না।এই বছর হাসিনা আগামী বছর খালেদা।মানুষ সচেতন হলে সব ঠিক হয়ে যেতো।
এখনো কাউকে ভোট দেই নাই , কারন আমি এখনো ভোটার হই নাই ….. কবে যে ভোটার হবো
অপেক্ষায় আছি সেই দিনের যেই দিন আমরাও সুন্দর নির্বাচন পাবো।
প্রথমবার ভোটার হয়েছি এবার কিন্তু ভোট দেই নাই।
যতদিন দেশে আছি ইনশাআল্লাহ ভোট দেয়ার ইচ্ছা নাই।
খুব ভালো । আমাদের দেশের নির্বাচন মানে মার মার কাট কাট…… ভালো লাগল শুনে যে ওখানে এতো ঝামেলা নাই । আশা করি আপনার লেবার পার্টি নির্বাচনে জয়লাভ করবে ।
আমি এর আগে বাংলাদেশের জাতীয় নিবাাচনে ১ বার ভোট দিয়েছি।
আপনি কি কাউকে যোগ্য মনে করছেন? আমার কিন্তু একজন কেউ যোগ্য মনে হয়না……..
হাসান ভাই, ভোট দিলাম গতবার প্রথম।বাংলাদেশে কয়েকবারের ভোট দেখে একটা মজার বিষয় লখ্য করলাম।সবাই পরে ভীর হবে ভেবে সাতসকালে লাইনে দাঁড়ায় যায়।বিশাল বিশাল লাইন হয় এক একটা।অথচ দুপরের পর দেখা যায় ভোট কেন্দ্রগুলো খা খা করে।সবাই ভীরের ভয়ে আগেই ভোট দিয়ে চলে গেছে…ভোটের ফলাফল নিয়েও সবার মাঝে চাপা উত্তেজনা দেখে মজা লাগে।গত ২ বার তো তেমন প্রতিদন্দীতা হয় নাই।তার আগেরবার ৯৬ এর নির্বাচনেতো অনেক ছোট ছিলাম কিন্তু মনে আছে বেশ উত্তেজনা ছিল।
আপনাদের ব্রীক লেনে নির্বাচনের উত্তেজনা কেমন?এবার তো একজন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত সাংসদ আশার জোরালো সম্ভাবনা আছে।তাদের ব্যাপারে কোন কিছু জানেন কি?চান্স কেমন?
আমাদের ব্রিক্ললেন বলবেন না। M…. F…. সিলেটিদের ব্রিকলেন বলুন।
কারন ওরা বাংলাদেশ মানচিত্র থেকে সিলেট জেলা আলাদা করে কেটে দেয়ালে লাগায়। অরিজিন জিগায়লে, বলে সিলেটি। বাংলাদেশ আর বলেনা।
এইবার লন্ডনে যত বাংলাদেশি ছাত্র এসেছে তাদের ৮০% পোলাপাইনের ইচ্ছা
তারা যদি দেশে যায় আর ঢাকায় সিলেটি পাইলেই নগদে মাইর। ঢাকা ছাড়, সিলেট যা । এরা অশিক্ষিত, বব্রর, নোংরা এবং বাংলাদেশের যথেষ্ট অবমাননা করে।
হাসান ভাই ভাল কইরা খায়া দাইয়া লুংগি পইরা পুরা বাঙালি ষ্টাইলে ভোট দিয়েন।
বলা যায় না লুঙ্গী পড়লে আবার কোন মড়নাস্ত্র না ভেবে বসে ! এমনিতেই তো বিদেশীদের বোরখা টোরখা দেখতে পারে না…
খারাপ বলেন নাই।
ha ha ha ha . jan dia asun
ওয়াও হাসান ভাই দেখি অনেক বড় হয়ে গেছেন…হাঃ হাঃ