অতিথি লেখক: সজীব | আদনান | রিয়া | তন্ময় | পান্থ | শামীম | টিউটো এবং আরও অনেকে

প্রোফেশনাল জীবনের ঘাত প্রতিঘাত: নিজেকে শুধরে নেওয়া

ছাত্র জীবনের শেষ মূহুর্ত থেকেই ছোট কোন একটা আয়ের পথ খুঁজতেছিলাম। টাকা আয়ের ব্যাপারটা কখনোই আমার কাছে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা দেয়নি। সেই সময়ে টাকা আয়ের উদ্দেশ্যটা ছিল নিজের বাড়তি খরচটাকে চালানোর জন্য। এমন কোন কাজ খুঁজছিলাম যেটার মধ্যে থাকলে পড়ালেখার ব্যাঘাত হবে না, আবার সময়টাকেও বেঁধে নেয়া যাবে। ছোটবেলা থেকেই অনেকটা ভীরু আর আত্নকেন্দ্রিকতা অনেকের সাথে আমার পরিচয় হতে দেরী করিয়ে দেয়। সেই সময়টা পার হয়েছে। ফুলটাইম চাকরী করার প্রাথমিক পর্যায়ে আমাকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। নিজের মধ্য থেকে জড়তা তারাতেও সময় নেয় অনেক। নতুন চাকরীতে যোগদানের পর যেসব সমস্যা আর ঝুট ঝামেলায় আমাকে পড়তে হয়েছে তারই উপর আমার এ পোস্ট। এখানে প্রোফেশনালদের চলাফেরা, আচার আচরণ, বস কি কি বিষয় অপছন্দ করেন তার উপরও আমার নিজের জীবনের আলোকে বর্ণনা করবো।

কথা বলা

নতুন কোন পরিবেশে গেলে অপরিচিত জনের সাথে কাজ করেতে গেলে কথা বলতে কিছু সমস্যা হতেই পারে। আমি নিজে প্রোফেশনাল জীবনের প্রথমদিকে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তাম কথা বলা নিয়ে। বসের প্রশ্নের উত্তর দিতাম একেবারে নিচু স্বরে। এক কথা আমাকে কখনো দু’বারও বলতে হতো। কিছু লোক হয়তো আপনার এ ভাল মানুষীটাকে ভাল ভাবতে পারে তবে কাজ করতে গেলে যে স্বাভাবিক আর সঠিক কথাটি ব্যক্তিত্বের সাথে বলার বিকল্প নাই। যাদের সাথে কাজ করেন তাদের সাথে কো-ওপারেশন একটা পর্যায়ে রাখতে হবে যাতে আপনার উপর কেউ চেপে বসতে না পারে, কেউ আবার আপনার কথায় মর্মাহত না হয় সেটাও দেখার ব্যাপার। আরেকটা কথা (চাকরীর প্রথমদিকে) অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ও আপনার জানা বিষয়গুলোতে আলোচনা করুন। অন্যরা হয়তো আপনার সাথে কিছু কথা আলোচনা করতে চায় না, সে ব্যাপারটিতে আগ্রহ দেখানোর দরকার নেই। যে কাজটি আপনার নয় সে দিকে অনেক আলোচনা সমালোচনার ঝড়ের মধ্যে নিজের নিরপেক্ষতা রক্ষা করে চলুন।

সিদ্ধান্ত/তথ্য দেওয়া:

আপনার অফিস কলিগ থেকে বস পর্যন্ত সবাই আপনার কাছ থেকে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে পারে। কখনোই এমন সিদ্ধান্ত দিবেন না যাতে বিষয়টি ঝাপসা মনে হয়। ধরুন, আপনি একজন এডমিন অফিসার, জিএম আপনাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো আইটি অফিসার এসেছে? আপনি না জানলে বলবেন জানাচ্ছি স্যার। কিন্তু কখনোই মিথ্যা তথ্য দিবেন না কিংবা বলবেন না যে হয়তো এসেছেন। প্রফেশনাল কাজে একটি বিষয়ের উপর নির্ভ করে আরেকটি কাজ হয়। তাই তথ্য অনেক প্রয়েজনীয় বিষয়। এমন হতে পারে যে আপনাকে অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব দিতে হয় বসের কাছে। বস কিন্তু আপনার সারা দিনের কাজের ব্যাপারটা দেখেন না। সে কিছু প্রশ্ন করেই আপনাকে যাচাই করে নেবে। তাই মাথায় রাখুন প্রয়োজনীয় তথ্য।

সমাধান দেওয়া

প্রতিষ্ঠানের কোন সমস্যা হাজির হলে যদি সেটা আপনার বসকে জানান তাহলে ব্যাপারটা ভাল হয় না। ভাল হয় যদি সম্ভাব্য সমাধানটিও করে দেন বা বলে দেন। মনে রাখতে হবে-প্রতিটি বিষয়েরই সমাধান আছে। ধরুন, আপনি আইটি অফিসার/ম্যানেজার, নতুন একটি অফিস সেটআপ হয়েছে। আপনাকে বলা হলো নেটওয়ার্কের সব ব্যবস্থা করতে । এ কথা বলার আগেই আপনাকে হিসেব শেষ করে রাখতে হবে- ক. কি ধরনের নেটওয়ার্ক করবেন খ. কি কি লাগবে? খরচ কত হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি । সবচেয়ে ভাল পদ্ধতিটির প্রস্তাবনা করবেন প্রথম, তার বাজেটের কথা বলে দিবেন। কোন একটি বিষয়ে মতবিরোধ হতে পারে, বিষয়টিকে স্পস্ট করে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত দিতে হবে আপনাকে। আমি জানি যে, বসেরা কখনো ঝামেলায় না গিয়ে দ্রুত কাজটি সমাধানের চেষ্টা করে- তাই আপনাকে বেশি সময় দিতে চাইবে না অনেক কাজেই, প্রতি বিষয় বুঝানোর জন্য আপনি কিছু নোট আকারে সমাধান দিতে পারেন। ধরুন, আপনাকে বললো ১৫টি কম্পিউটারের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক একদিনের মধ্যে করে দিতে। কিন্ত আপনি জানেন দুইদিন সময়ের লেগে যেতে পারে। তা অবশ্যই উপযুক্ত কারনসহ জানাতে হবে। আজ কি করবেন, আগামীকাল কি করবেন তার একটি তালিকাও প্রয়োজনে করে নিবেন। বেশি বেশি সমস্যার কথা বলেবেন না।

নতুনত্ব ও খাপ খাওয়ানো

নতুন পরিবেশে অনেক কিছুই আপনার ভাল নাও লাগতে পারে। আপনার মনে হতে পারে এ নিয়ম বদলানো দরকার। কিন্তু সাথে সাথে নতুন আইনটি চালু করার ব্যাপারে আমি নারাজ। আপনি পরিবেশটি অনুধাবন করুন-প্রথম। আমি দেখেছি নতুন অনেক ম্যানেজারই নতুন নতুন অনেক আইন প্রথমে চালু করে পরে সেই আগের মতোই হয়ে যায়। তারপর দেখা যায় সবাইকে পরিবর্তন না করে সে নিজেই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আবার পরিচয়ের প্রথমে অনেক অকর্মা লোকের তোষামোদের ফাঁদেও পড়েন অনেকে। ব্যস্ত লোকগুলো তাদের কাজের কারনে হয়তো পরিচিত হতে সময় পায়নি হয়তো। পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা, সততা ইত্যাদির মূল্যায়ন করুন। যাদের নিয়ে আপনাকে কাজ করতে হবে তাদের নাম জানা, মোবাইল নম্বর, মেইল ঠিকানাও সংগ্রহ করে নিন।

এগুলো আমার প্রোফেশনাল জীবনের শিক্ষা থেকে নেওয়া। আমি সামনের দিনগুলোতে নিজের ব্যক্তিত্বের উপর কথা বলার চেস্টা করবো। একটু ভিন্ন ধর্মী এ পোস্টটি আপনাদের কেমন লাগলো জানাবেন।

লেখাটির সূত্র

About the author

টিউটো ১৯৮৩ সাল থেকে সূর্যের সাথে পরিচয়। খেলতে খেলতে কীবোর্ডের সাথে সখ্যতা। নিজে অবাস্তববাদি, চিন্তা বিলাসী আর ছন্নছাড়া জীবনটা পছন্দ করি। নিজের ভেতেরর প্রাচীন মনটা কখনো বা অধুনিক হতে চায়,কখনো বা কয়েকশ বছরের প্রাচীন কোন মানুষের মতো হতে চায়। জীবনান্দের কবিতা বইটা এখনো ছাড়তে পারি নাই। লিপ্ত হতে হয়েছে বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরীতে। টিউটরিয়াল সাইট টিউটরিয়ালবিডির এডমিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছি।

এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:

No related posts.

{ 27 comments… read them below or add one }

EBRAHIM SHAH June 9, 2010 at 12:53 pm

অনেক ভাল লিখেছেন। যারা চাকুরীতে নতুন বা পুরাতন সবারই কাজে আসবে এই পোস্টটি।

Reply

টিউটো June 2, 2010 at 1:46 pm

দিনের বেশিভাগ সময়ই অফিসে চলে যায়, বাসায় গিয়ে খাওয়া আর ঘুমানো…প্রোফেশনাল না হয়ে উপায় নেই। অফিসের কাজ কমের্র উপর একটি ব্লগও খোলা হলো । Rafiur,Hustler,সজিব,তন্ময় সহ যারা মতামত দিয়েছেন ও যারা পোস্টটি পড়েছেন সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Reply

Rafiur May 27, 2010 at 5:11 pm

পুরো লিখাটাই পরলাম। খুব গুছিয়ে লিখেছেন। আশা করি আপনার এই উপদেশ গুলো ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারব।

Reply

Hustler May 27, 2010 at 3:00 am

খুব ভাল লাগলো লেখাটি পরে

Reply

sojib Rahman May 26, 2010 at 8:55 pm

খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা পোস্ট।ধন্যবাদ

Reply

জিন্নাত উল হাসান May 26, 2010 at 7:14 pm

সবাই ভাল লেখা, ভাল লেখা বলে অনেক প্রশংসা করলেন, কিন্তু কেউই ফেসবুকে প্রিয়জনদের সাথে লেখাটি শেয়ার করলেন না।

Reply

তন্ময় May 26, 2010 at 7:03 pm

এক কথায় দারুন।

Reply

nijhumdip May 26, 2010 at 1:20 pm

টিউটো ভাই এক কথায় চমৎকার লিখা।এতো সুন্দর করে কথাযে গুছিয়ে লিখতে পারে সে নিশ্চয় কথা অনেক গুছিয়ে বলতেও পারে।আপনার কথাগুলো আমার ব্যক্তিগত জিবনে অনেক কাজে লাগবে আশাকরি। ভাল থাকেন খুব ভাল সবসময়।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:26 pm

কবে যেন ভেবেছিলম, কোন এক নিঝুম দ্বীপে আমি একা ঘুমিয়ে দেখবো কেমন হয়!!! আপনার নামটি শুনে সেই বাসনাটা আবার জেগেউঠলো। ভাল থাকবেন।

Reply

nijhumdip June 2, 2010 at 11:59 am

টিউটো ভাই নিঝুমদ্বীপ এ গিয়েছেন নাকি?দারুন যায়গা সময় করতে পারলে ঘুরে আইসেন আশাকরি ভাললাগবে।

Reply

প্রজাপতি | The Mysterious Bird May 26, 2010 at 12:13 pm

আমার থেকে অনেক ভালো লাগছে। ভালো লাগার একমাত্র কারন আমার কয়েক দিনের মধ্যেই একটা ভালো কোম্পানীতে চাকুরী করতে হতে পারে। তাই বিষয়টা মাথায় রাখলাম আরকি…….. ধন্যবাদ।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:19 pm

নামটা তো সুন্দর ..প্রজাপতি..। অনেক দিন প্রজাপতি দেখি না…সময় করে একদিন আমার ছোটবেলার খেলার উপকরণ জোনাকী আর প্রজাপতির সাথে দেখা করতে হবে। আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগলো। ধন্যবাদ,প্রজাপতি।

Reply

Monir May 26, 2010 at 12:11 pm

ভিন্নধর্মী ও গোছানো সুন্দর পোস্ট ।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:24 pm

হা.. একটু ভিন্নধমীই হয়েছে। নিজেকে একটু ভিন্ন মানুষ করে গড়তে চেয়েছিলাম, পারি নি। সবার মতোই কাজ করে খাওয়া ..বেচে থাকা ..মরে যাওয়া…। একই মানুষ হাজার বছর ধরে..জন্মলয়,মারা যায়।

Reply

আরমান May 26, 2010 at 12:00 pm

এই পোষ্টটি চাকরি জীবনে অনেক কাজে দিনে বিশেষত নতুনদের। ধন্যবাদ। আর টিউটো ভাই, দোয়েল পাখির পরিবর্তে আপনাকে দেখার আজকে অবশেষে সুযোগ হল !

Reply

মামুন সৃজন May 26, 2010 at 11:57 am

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় এ পর্বের লিংকটা কয়েক দোস্তকে ফরওয়ার্ড করলাম

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:08 pm

লেখাটা সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ মামুন সৃজন ভাই। একটু সময় করে পরের পবর্ লিখবো।

Reply

শান্ত May 26, 2010 at 11:40 am

ভাই লেখাটা খুব ভাল হয়েছে । আর গোছালো হয়েছে ।

Reply

Shamim May 26, 2010 at 11:33 am

অসাধারন হয়েছে ভাইয়া…………অসাধারন।

এক কথায় বলতে গেলে “জোশ্”।

মাঝে মাঝে এ ধরনের ভিন্নধর্মী কাজের পোস্ট না হলে কেমন যেন একঘেয়েমী লাগে ব্লগটা। আশা করি এ ধরনের আরো পোস্ট পাবো।

Reply

রাজিবুল May 26, 2010 at 11:13 am

যারা সদ্য পড়ালেখা শেষ করে চাকরিপ্রার্থী হতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই লেখাটা কাজে লাগলে। তবে ঢালাও ভাবে সব খানেই এই বিষয়গুলো কাজে লাগানোর আগে নিজের বুদ্ধি বিবেচনায় পারিপাশ্বিকতাটা বুঝে যে অবস্থান যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি কার্যকর সেটাকে কাজে লাগালে পারাটা সব চেয়ে সহজ সমাধান।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:06 pm

খুবই ভাল কথা। আসলেই পারিপার্শিক অবস্থানের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। একই সুত্র এক সবজায়গায় প্রয়োগ করা যায় না। আমি অবশ্য তিনটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে অল্প সময় করে চাকরী করেছি তারই অভিজ্ঞতায় বললাম…ধন্যবাদ রাজিবুল।

Reply

Mizanur May 26, 2010 at 10:06 am

লেখাটা খুব ভালো লেগেছে। কাজে লাগবে।

Reply

Noor May 26, 2010 at 12:12 am

আপনার সাথে আমারও বেশ মিল আছে।
আর হ্যা, লেখাটা অতিঅবশ্যই ভালো হইছে। কী সাবলিল লেখা। আপনার লেখা পড়ে একটু একটু হিংসাও হচ্ছে। অক্ষরের সাথে অক্ষর মিলিয়ে ছন্দ আকারে মানুষ যে কিভাবে কথা বানায়!
আপনার প্রফেশনাল অভিজ্ঞতার কথা সকলের কম-বেশি কাজে দিবে। আপনার পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 2:03 pm

ভাল লাগলো আমার মতোও মানুষ হয়….আমি ভেবেছিলাম লেখাটা বুঝি বাজে হয়েছে…প্রকাশ হবে না।

Reply

শান্ত May 25, 2010 at 6:11 pm

ভাই পোস্টটা পুরা পড়ি নাই । তবে আপনার প্রোফাইল দেখে খুব ভাল লাগল ।

Reply

হতাশ পারেভজ May 25, 2010 at 5:59 pm

এখনো চাকরিতে ঢুকিনি ঢুকলে বুঝতে পারব।

Reply

টিউটো May 27, 2010 at 1:59 pm

চাকরীতে ঢোকার আগে ভ্রমন করে নিন আপনার পছন্দের জায়গাগুলো। চাকরীতে ঢোকলে হয়তো টাকা হবে,সময় হবে না।

Reply

Leave a Comment

Enable Google Transliteration.(To type in English, press Ctrl+g)

Notify me of followup comments via e-mail. You can also subscribe without commenting.

Previous post:

Next post: