অতিথি লেখক: সজীব | আদনান | রিয়া | তন্ময় | পান্থ | শামীম | টিউটো এবং আরও অনেকে

[ফালতু পোস্ট] বাংলাদেশে সবই সম্ভব – ভাবতেই ভাল লাগে

অনেকদিন ধরে ফালতু পোস্ট বিভাগটি খাঁ খাঁ করছে। আসলে আমার পুরো ব্লগটাই আসলে বিরাণ মরুভূমি হয়ে গেছে। আমারই দোষ, সময় দিতে পারছি না।

যাহোক, আজকে একটি গল্প সাথে বাস্তবতার প্রমাণ দেব। আশা করি ভাল লাগবে।

গল্প:

একজন জেলা প্রশাসক খাল খননের নাম করে সরকারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে এলেন। ভাগ বাটোয়ারার পর কিছুই থাকলো না, তাই খালও খনন করলেন না। তিন বছর পর যখন নতুন জেলা প্রশাসক এলেন, তিনি তার পূর্বসুরির কুর্কমের কাগজপত্র ঘাঁটতে খাল খননের বিলটি খুঁজে পেলেন। অথচ গ্রামে কোনো খাল দেখতে পেলেন না। তার মাথাতেও কুবুদ্ধি খেলে গেল। তিনি খালটি পুন:খননের জন্য সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এলেন কিন্তু কিছুই করলেন না। পুরো টাকাটাই মেরে দিলেন। এরপর পরের জেলা প্রশাসক যখন এলেন, তিনি আগের দুজনের কুকর্ম দেখে সরকারের কাছে বললেন খালটির কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে। তাই তিনি খালটি ভরাটের জন্য টাকা নিয়ে এসে পুরোটাই মেরে দিলেন।

খালটি নিয়ে তিনবার টাকা হাত চালাচালি হল, অথচ খালটি দিনের আলো দেখলো না।

বাস্তবতা:

বাচ্চাকালে বাংলাদেশের শিল্প বিভাগে পড়েছিলাম যে আদমজী জুট মিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুট মিল। ইতিহাসে লেখা আছে এখানে ২৬,০০০ লোক কর্মরত ছিল। অথচ স্বাধীনতার পর থেকেই মিলটি লোকসান দিতে শুরু করে। অবশেষে ২০০২ সালে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে মাধ্যমে ১ হাজার ৪ শ’ কোটি টাকা খরচ করে মিলটি বন্ধ করে দেয়া হয়। মিলটির যন্ত্রপাতি হরির লুটের মতো পানির দামে বেঁচে দেয়া হয়। পত্রিকা ঘাঁটলেই দেখতে পারবেন। তারপর আবার অনেক টাকা খরচ করে সেখানে ইপিজেড বসানো হয়। এবার শুনতে পাচ্ছি পাটের নাকি সুদিন ফিরে এসেছে। তাই সরকার আবার অনেক টাকা খরচ করে নতুন করে পাটকল বসাতে যাচ্ছেন!

আমার কথা:

দুইটি ঘটনার মধ্যে কোনো মিল দেখতে পেলেন। আমি বাংলাদেশের জন্য সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখতে চাই, কিন্তু কাকে ঘিরে এই স্বপ্ন দেখবো?

About the author

Jinnat Ul Hasan তিনি একজন ওয়েব ডেভেলপার, ব্লগার এবং সার্চ ইঞ্জিন কনসালটেন্ট হিসেবে FE Samuels Group এ কর্মরত আছেন। তিনি অবসরে হাসান অনলাইন এ ইংরেজি ব্লগ লিখেন এবং সার্চ ইঞ্জিন ফোরামের এডমিনের দায়িত্ব পালন করছেন। Google Profile

এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:

No related posts.

{ 15 comments… read them below or add one }

Kawsar August 19, 2010 at 3:57 pm

এমনিতে শুধু ব্লগ পড়ি আর পড়ি । আজকে আর কমেন্ট না করে পারলাম না। হাসি ও আসে আফসোস ও লাগে।

সবাইকেই ধন্যবাদ। ভালো লাগল।

আমার এখন আর দেশের চিন্তা করতে ভাল লাগে না।

Reply

জিন্নাত উল হাসান August 20, 2010 at 5:27 am

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Reply

অশরীরী জড় প্রাণ August 15, 2010 at 7:17 pm

আমাদের হাজারো সমস্যা, আমাদের হাজারো দোষ; তারপরেও হাঁটি হাঁটি পায়ে এগিয়ে যাবে, সম্মুখে বাংলাদেশ।

Reply

nasha August 13, 2010 at 10:11 am

“….আমি বাংলাদেশের জন্য সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখতে চাই, কিন্তু কাকে ঘিরে এই স্বপ্ন দেখবো?”…১

“…ভারতীয়রা মনে হয় এইভাবেই এগোচ্ছে। চুরিও করবে, আবার কাজেও ফাঁকি দেবেনা। বাংলাদেশ এইভাবে এগোতে পারছেনা, কারন সবটাই চুরি করে ফেলছে…”….২

জিন্নাত উল হাসান ভাই[১] ও রিয়া আপুর[২] ব্যথিত আক্ষেপে আমার বলতে ইচ্ছে করছে, যারা অতি স্বাধীনতা পেয়ে ৭ কোটি কম্বল চুরি করা শুরু করে এখোনো করছে তার একটা সমুচিত বিচার হউক, তারপর অন্যকিছু।

সত্যি ভাবতে অবাক লাগে,যেদেশে জনগনের থেকে নেওয়া হাজার কোটি টাকা খরচের প্রশাসনে ১ম শ্রেনী কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে ফাঁস করা প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে বিবেকহীনভাবে এইসব পদে ঢুকে, সে জাতিকে কি দিবে, দেশের জন্য কি করবে? সেত নীতিবোধহীন চোর।

আর রাজনীতিবিদ, তারাতো একজন আরেকজনকে প্রকাশ্যেই চোর-দূর্নীতিবাজ বলে !!!

তাইতো স্বাধীনতার এত বছর পরও আমাদের দেশের মানুষদের মৌলিক-চাহিদা গুলো অপূর্নই আছে।

Reply

Rajibul August 10, 2010 at 11:27 am

আমি হতাশা গ্রস্থ নই। যে সব মানুষের কথা বলছেন আমি কিছুটা এদের মাঝেই থাকি। এদের মাঝে অনেক ভালো মানুষ আছে। দেশের জন্যই ভাবার লোক আছে। শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিচালকের।

Reply

Shamim August 10, 2010 at 2:46 am

পাটের কথা যেহেতু তুললেনই…তাহলে কয়েকটা কথা বলি।

পাট নিয়ে বাংলাদেশে হাম্বিতাম্বি শুরু হয়ে গেছে এটা সত্যি। পুরনো, অকর্মন্য, বেশি বয়সী কর্মকর্তাদের অবসর দিয়ে তরুন, মেধাবী ছেলেদের নেয়া হচ্ছে। দেশে কিন্তু আদমজী ছাড়াও বেশ কয়েকটি সরকারি পাটকল এখনো আছে। ওগুলাতে বেশ বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।যাই হোক, আসল কথায় আসি।

কয়েকদিন আগে পাটের উৎপাদন বিভাগে সহ:ব্যবস্থাপক হিসেবে ৬০ জন নিয়োগ দেয়া হবে। যোগ্যতা লাগবে “টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিংএ স্নাতক”।
একজন টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ার হিসেবে আমিও আবেদন করলাম। প্রায় ৩০০০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৬০ জনকে লিখিত পরীক্ষায় টিকানো হলো। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকায় আমিও টিকে গেলাম। এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু আমার চোখে কয়েকটা গড়বড় আছে…..গল্পের “জেলা প্রসাসক” টাইপের কারো অস্তিত্ব নিয়ে গড়বড়। যেমন —-

১। আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে পঁচা ছা্ত্র (যে এখন পর্যন্ত কোন সেমিস্টারেই রেফার্ড না খেয়ে পরের সেমিস্টারে উঠতে পারে নাই) সে কিভাবে এই তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝে ৩০০০ জনের মধ্যে ৬০ জনের ভিতরে এসে গেলো, মানে লিখিত পরীক্ষায় টিকে গেলো?

২। ৬০ জনের মধ্য হতে অবশেষে ২৭ জনকে চাকরি দেয়া হবে। ভাল কথা। কিন্তু ভাইভা পরীক্ষার রেজাল্ট বের না হওয়া সত্বেও ইতোমধ্যে ৬ – ৭ জন তাদের চাকরীর নিশ্চয়তা দেয় কিভাবে?

৩। ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসার সময় অন্য একটা লোক তার রুমে নিয়ে গিয়ে বাড়ী কই, চাকরি কি করতে চাই এই টাইপের প্রশ্ন করলো কেন? তার কি উদ্দেশ্য ছিল?

৪। পাট শিল্পের উন্নতি চাইছে সরকার, ভালো কথা। কিন্তু, কি হবে যদি ক্লা্সের সবচেয়ে পঁচা ছাত্র কাকতালীয়ভাবে (?) লিখিত পরীক্ষার ন্যায় ভাইভাতে টিকে যায় এবং চাকরীটা পেয়ে যায়?

প্রশ্ন আর প্রশ্ন।………..আর ভাল্লাগে না। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাই। :(

Reply

ইবনে নাজিম August 9, 2010 at 8:18 pm

মন্দ কী? যেদেশে সকলেই এমন সে দেশে এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আসলে মন্দ আমাদের কপালটা।

Reply

Shahariar August 9, 2010 at 8:04 pm

মজা পাইলাম!!!!
এভাবেই হবে…দেশ এগিয়ে যাবে।।।

Reply

সাম্য August 9, 2010 at 6:41 pm

জ়িন্নাত ভাই এবং রিয়া আপি, আপনারা অনেক দূরে বসে এসব দেখছেন। আর আমরা এর মাঝেই বসবাস করছি, আমাদের অবস্থাটা বুঝেন তাহলে?

Reply

জিন্নাত উল হাসান August 9, 2010 at 6:45 pm

সাম্য আপনার কথাটা মানতে পারলাম না। আমি মাত্র পাঁচ বছর হয় লন্ডনে এসেছি। জীবনের বাকি ২৪টা বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে কাটিয়েছি। তাই বাংলাদেশ আমার কাছে নতুন না। রিয়াও তো বাংলাদেশের মেয়ে।

Reply

রিয়া August 22, 2010 at 1:51 pm

ঠিক কথা হাসান! আমিও মাত্র ৩ বছর হলো চেনা শহরের গন্ডির বাইরে এসে বসবাস করছি।

Reply

জিন্নাত উল হাসান August 26, 2010 at 5:51 pm

১লা অক্টোবরে আমার পাঁচ বছর পূর্তি হচ্ছে।

Reply

রিয়া August 9, 2010 at 8:38 am

এই ব্যাপারে ভারতীয় টাকা চুরির গল্প ভালোই। আমার নিজের দেখা ঘটনা একটা বলি: হাইওয়ে মেরামতের টেন্ডার ডাকা হয় এমনভাবেই যেন পরের বছরে বর্ষায় সেই রাস্তা আবার মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। এইভাবে যেন প্রতিবছর একই রাস্তার জন্য টেন্ডার ডাকা যায়! এখানে চুরি কেমন? বিভিন্ন পদের ইঞ্জিনিয়াররা শতকরা হারে কমিশন পেয়ে থাকেন কনট্র্যাক্টরের কাছে থেকে। তাই তারা প্রতি বছরের কমিশনের ব্যবস্থা পাকা করে রেখেছেন। এরা কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন না, তবে একই কাজ বার বার করে প্রতিবার কমিশন নিচ্ছেন।

আরেকটা ঘটনার উল্লেখ করি, এটা সৎ মানুষের চুরি: কোলকাতার পাতাল রেলের ঘটনা। উদাহরণ হিসেবে বলি, যেখানে ২০ ফুট গর্ত করে লোহার বিম মাটিতে ঢোকানোর কথা, সাধারনভাবে চুরি হয় এইভাবে ১৫ ফুট গর্ত করে কাজে ফাঁকিবাজি করে ২০ ফুটের টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সৎ মানুষের চুরি কেমন বলুন তো? একজন সৎ ইঞ্জিনিয়ারকে চিনি আমি, তিনি ২০ ফুটে ফাঁকি দিতে অনুমোদন দেননা কাউকে। অর্থাৎ কাজে তিনি পাক্কা ইঞ্জিনিয়ারিং মতেই করলেন। অথচ বিল করার বেলায় কনট্র্যাক্টরের খাতায় ২০ ফুট না লিখে তিনি লিখলেন ২৫ ফুট। কনট্র্যাক্টর চুরি না করে পারবেনা, তাই এই ব্যবস্থা। ইনি ইঞ্জিনিয়ারিং দিকে ফাঁকি দিলেন না কারন ভবিষ্যতে মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে, আবার কনট্র্যাক্টরকেও বাড়তি টাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে দুই দিকই বজায় রাখলেন। (এই ইঞ্জিনিয়ারকে সৎ আখ্যা দিলাম কারন ইনি কনট্র্যাক্টরের কাছে থেকে এক পয়সাও নেননি তার সার্ভিস জীবনে; চোরকে সাহায্য করাও চুরির সমান, তবে এটা কলিযুগ তাই এতোখানি কড়া করে বিচার করা যাচ্ছেনা তাকে) ইনি ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড কাজও তিনি করেছেন এককালে।

ভারতীয়রা মনে হয় এইভাবেই এগোচ্ছে। চুরিও করবে, আবার কাজেও ফাঁকি দেবেনা। বাংলাদেশ এইভাবে এগোতে পারছেনা, কারন সবটাই চুরি করে ফেলছে – ব্লগে যেমনটি লেখা।

Reply

mamun billah August 10, 2010 at 12:36 am

দ্বিতীয় চুরিটা হলো বর্তমান যুগের সৎ চুরি ।আর্মিরা যখন চুরি করে তখন এই্ভাবেই করে ।কাজে কোন ফাকি দেয়না ঠিকটাকমত করে কিন্তু বিল আনে বেশি ।আমাদের মানুষগুলো যদি এইভাবে চুরি করতো তাহলে আমরা অণেক সামনে এগিয়ে যেতাম কিন্তু হায় বিধিবাম আমরা সবটা খেয়ে ফেলি ।

Reply

Shamim August 10, 2010 at 2:24 am

“আমাদের মানুষগুলো যদি এইভাবে চুরি করতো তাহলে আমরা অণেক সামনে এগিয়ে যেতাম” —- মামুন ভাই। আপনার কথা শুনে মজা পাইলাম। আপনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার আর কোন বুদ্ধি পাইলেন না? :)

Reply

Leave a Comment

Enable Google Transliteration.(To type in English, press Ctrl+g)

Notify me of followup comments via e-mail. You can also subscribe without commenting.

Previous post:

Next post: