এক
কিছুদিন আগে সামহোয়ারইনে বাংলাদেশি একটি পরিবেশবাদী প্রতিষ্ঠানের পোস্টে মন্তব্যে বলেছিলাম যে তাদের ওয়েবসাইট বানাতে যেকোনো প্রয়োজনে সাহায্য করব। বেশ কয়েকবার ইমেইল চালাচালি করেছিলাম, তারপর আর কিছু জানি না। যাহোক গত পরশু একটি ইমেইল পেলাম, অনেকটা নিউজলেটার টাইপের ইমেইল। অবাক করা বিষয় হলো প্রাপকের সবগুলো ইমেইল এড্রেসই সেন্ডারের ঘরে বসানো হয়েছে। ফলে প্রত্যেকটি ইমেইল এড্রেস দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে কি আমার প্রাইভেসি নষ্ট হল না? তার উপর প্রাপকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন করে ইমেইলটি ফরোয়ার্ড করছে, ফলে আরও ইমেইল জমা হচ্ছে। আনসাবস্ক্রাইবের কোনো উপায়ও নাই। অগত্যা স্প্যাম বোতামে চাপ দিতেই হলো।
দুই
অামাদের মধ্যে অনেকে নিজেকে ফ্রিল্যান্সারের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চান। কিন্তু দেখা যায় তার নিজেদের ব্লগে লিখেন আজকে বিদ্যুৎ ছিল না, তাই কাজ করতে পারিনি কিংবা হরতালে অফিস বন্ধ ছিল। একটু চিন্তা করে দেখুন তো আপনি যদি ভিনদেশি কোনো কাস্টমার হতেন, আপনি কি আমাকে কাজ দিয়ে শান্তি পেতেন? আমি জানি বাংলাদেশে অনেক সমস্যা কিন্তু সমস্যাগুলো যাতে আপনার কাস্টমারের কানে না যায় সেদিকটা কি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে না?
তিন
ফেসবুক বাংলাদেশে একটি তামাসায় পরিনত হয়েছে। যে যাকে পারছে এ্যাড করছে। মেয়েদের একাউন্ট বানিয়ে হাজার হাজার বন্ধু জমা করছে। সে বিষয়ে নাই বা বললাম, রিয়ার ব্লগে এই নিয়ে একটি পোস্ট আছে। পড়ে দেখতে পারেন। কিন্তু আমার সমস্যা হচ্ছে অন্যখানে। কিছুদিন আগে আমার একজন পরিচিত মেয়ে নতুন নতুন একাউন্ট খুলে ইচ্ছা মতো ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ফেসবুকের একাউন্ট সাজিয়েছে। এরপর যা হবার তাই হয়েছে, রাত বিরাতে মোবাইলে উড়ো ফোন আসা শুরু করে। দোষটা কার? আবার একজন আরেকজনকে মোবাইল নম্বর, ইমেইল এড্রেস, বাসার ঠিকানা চালাচালি করছে পাবলিক স্ট্যাটাস আপডেটের মাধ্যমে। এতই যদি দরকার হয়, তবে ম্যাসেজ আকারে পাঠালে কি সমস্যা?
চার
“জাফর ইকবাল স্যারের ৪০টি উপন্যাস ডাউনলোড করুন” টাইপের পোস্ট প্রায়ই দেখা যায়। আমি ডাউনলোড কখনই থামাতে পারবো না, নিজেও টুকিটাকি ডাউনলোড করি। কিন্তু হাসি পায় যখন স্যার বলে সম্মান করে তার রুজিরুটিতে ভাগ বসাই। আপনার ওই স্যারই কিন্তু আপনার জন্য অনেক টাকা রয়ালটি থেকে বঞ্চিত হলেন। এখন বলবেন, স্যারের অনেক টাকা আর আমার বই কেনার টাকা নেই।
পাঁচ
কিছুদিন আগে পোস্টে অবৈধভাবে থিসিস থীম ব্যবহার না করে অন্য থীম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তারপরেও অনেকে ব্যবহার করেছেন, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু ওই থিসিস থীম কাস্টমাইজেশনে সাহায্যের জন্য প্রচুর ইমেইল পেয়েছিলাম। এটা কি যুক্তিযুক্ত? আরেকটা কথা, অনেকেই নিজেদের ব্লগে অবৈধ ডাউনলোডের লিংক দেন। কাজটি কি ঠিক? আপনি বলবেন, আপনি আপলোড করেননি, কেবল লিংকটি আপনার ব্লগে তুলে দিয়েছেন। প্রত্যুত্তরে আমি বলব, ইন্টারনেটে আছে ভাল কথা, তাই বলে কি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে? আপনি অন্যের প্লেটে হাত দিয়েছেন, কাল দেখবেন, আরেকজন আপনারই পোস্ট করে নিজের ব্লগ বানাচ্ছে। তখন কি বলবেন?
ছয়
অযথা ইমেইলে অটো রিপ্লাই বসাবেন না। অটো রিপ্লাই সাধারনত ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য। আপনি যখন আমাকে ইমেইল করেন, তখন কোনো সমস্যা না। কিন্তু যখনই আমি আপনার ইমেইল উত্তর দেই, তখনই আপনার বিরক্তিকর অটো ইমেইল আমার ঠিকানায় চলে আসে। আমার জায়গায় আপনি থাকলে কি করতেন?
আজকে একটু মেজাজটা গরম ছিল, তাই লেখাটি জন্য দু:খিত। আপত্তিকর মনে হয়ে অভিযোগ করুন, পোস্টটি মুছে ফেলা হবে।
সাথে থাকুন, ভাল থাকুন।
সবার জন্য রইল শুভ কামনা।
এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:
No related posts.
{ 24 comments… read them below or add one }
আজই এলাম এবং আপনার এই পোষ্টটি পড়ে নতুন অনেক কিছু জানলাম। ইন্টার নেটে মানুষের আচরণবিধি সমৃদ্ধ পোষ্টটি আমার মনে হয় খুবই কাজের।
আমি এই পরিবারে নতুন যুক্ত হলাম। পোষ্ট গুলো চমংকার।
একদম খাঁটি কথা বলেছেন , কিন্তূ আমরা জানি নামায না পড়লে দোযখে যেতে হবে তবূও নামায পড়ি না ঠিক অনেকেই বূঝেও বুঝে না , আমি যে ভালো তা বলছি না
হাসান ভাইয়া,
ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন সম্পর্কে একটু ধারনার দরকার ছিল। সোশ্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ারের জন্য পোষ্টের হেডলাইনের পাশে facebook, twitter, google buzz এর আইকন দেখায় সেই প্লাগিন কোথায় পাব? আপনার সাইটকে ফলো করার জন্য পাশে যেই প্লাগিন ব্যবহার করেন এবং “পোষ্টটি লিখেছেন …” এই প্লাগিন কোথা থেকে ডাউনলোড করা যায় বলতে পারলে উপকৃত হতাম।
ধন্যবাদ।
সোশাল বুকমার্কিংয়ের জন্য – http://wordpress.org/extend/plugins/share-this/
লেখকের প্রোফাইলের জন্য আমি কোডিং করেছি। আপনি http://wordpress.org/extend/plugins/author-box-1/ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
যেকোনো প্রয়োজনে ব্লগের প্লাগইন সেকশনে গিয়ে অনুসন্ধান করুন, পেয়ে যাবেন। তবে নিজের হোস্টিংয়ে ইনস্টল করা ওয়ার্ডপ্রেসে প্লাগইন ব্যবহার করা যায়, ওয়ার্ডপ্রেস.কম -এর ফ্রি ব্লগে করা যায় না।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
হাসান ভাইয়া, অনেক ইংরেজী ফোরাম আর ব্লগে লেখা দেখলাম যে গুগল নাকি ব্লগার ডট কম এর জন্য এখন আর এডসেন্স এপ্রুভ করে না, এটা কি সঠিক?
আর আমি যদি ফ্রী হোস্টিং এ ডোমেইন কিনে ব্যবহার করি তাহলে কি কোন সমস্য হবে?
আমার মনে হয় কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। ব্লগাররা একটা ব্লগ খুলেই ৫/১০ ব্লগ পোস্ট করেই এডসেন্সের জন্য আবেদন করে। এজন্যই আবেদন গ্রহন হয় না।
Zinnat vai post ti pore beapok moza pelam.Apnar mezaz gorom thakar kollane valo kichu jante parlam.Post ti thakle valo hoy.Thanks………
এমন ফালতু পোষ্টের আশায় থাকলাম।
ভালই লাগলো ।
এটি একটি জনসচেতনামূলক পোস্ট।
অনেক সাধারণ কিন্তু অনাকাঙ্খিত ভুল তুলে ধরা হয়েছে।
জিন্নাত ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটা পোস্ট লেখার জন্য।
পোস্টটি থাকুক। সবারই পড়া উচিত এটা।
সবার কাছে অনুরোধ থাকবে……প্লিজ, পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার করুন।
ফেসবুক শেয়ারের হিসেবমতে ১০ জন পোস্টটি শেয়ার করেছেন, অর্ধনগ্ন ছবি দিলে ১০০ জন শেয়ার করতেন।
বিশ্বাস হয় না?
সর্বাধিক জনপ্রিয় পোস্টের তালিকার প্রথমে কি দেখুন!
হুমম। এটাই আসলে নির্মম বাস্তবতা।
আর মন্তব্য? নিস্প্রয়োজন।
পোস্ট থাক, মোছার প্রয়োজন নেই। সবসময়ে সবার মন যুগিয়ে চলে একজন ব্লগার তার নিজস্বতা হারাতে পারে, তাই মাঝে মাঝে ব্লগার তার নিজের মতবাদকে তুলে ধরারও প্রয়োজন আছে। এটাই ব্লগিংয়ের মূল স্পিরিট। তাতে কারো কাছে সেটা আপত্তিকর মনে হলে হোক।
আমি পোস্টের সব কয়টি পয়েন্টের সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করছি। আমরা অনেকেই অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি ঘটিয়ে ফেলি, কখনো জেনে, কখনো বা অজান্তে। একটি সুবিধা পেলেই সেটা ব্যবহার করতে শুরু করে দিই, ব্যবহারবিধি সবটা জানার অপেক্ষা করিনা। আমরা অপরের দিকে আঙ্গুল তুলতে পছন্দ করি, কিন্তু আত্মসমালোচনার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে একেবারেই যাইনা। আমরা দুর্নীতির ব্যাপারে অনেকেই সোচ্চার, অথচ সেই দুর্নীতি যে আমাদেরই রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে ব্যাক্তিগত স্তরে সেকথা স্বীকার করিনা, উলটে অজুহাত দেখিয়ে পার পেতে চেষ্টা করি।
হাসান ঠিক কথাই বলেছেন, অন্যায় করলে তা একদিন আমাদেরকেও আহত করে ফেলে অন্য কোনোভাবে। তখন আমরা খুশী হতে পারিনা। আমি অনুরোধ জানাবো যে এই পোস্ট যেন মোছা নাহয়।
গ্যাস নাই বলে অফিস ভাংচুর করি, অথচ একটি ম্যাচের কাঠি বাঁচানোর জন্য সারাদিন গ্যাসের চুলো জ্বালিয়ে রাখি।
এটাই আমাদের স্বভাব!
একমত রিয়াপি।
ভালো লাগলো আপনার লেখার ধরন আর প্রকাশভঙ্গি।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর বদৌলতে বাংলাদেশে মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ইন্টারনেট। কিন্তু খুব কম মানুষেরই সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা আছে। একটা মজার ঘটনা বলি।
বছর খানেক আগে আমার এক রুমমেট আমার ইমেইল এ্যাড্রেস নিয়ে দেশে পাঠায় কোন এক আত্মীয়ের পাসপোর্ট পাঠানোর জন্য। কয়েকদিন পর একদিন সকাল বেলা ফোন করে বলে, ভাই আপনার ইমেইলে আমার ভাই-এর পাসপোর্ট পাঠিয়েছে। ওটা খুব জরুরী দরকার। এখনই একজনকে দিয়ে আসতে হবে ভিসার ব্যাপারে। আপনি আপনার ইমেইলের পাসওয়ার্ডটা বলেন। আমি একটা দোকানে গিয়ে সেটা খুলে পাসপোর্টটা প্রিন্ট করে নিব। আমি যতই তাকে বুঝাই, একজনের মেইলের পাসোয়ার্ড আরেকজনকে দেয়া সম্ভব না, একটু অপেক্ষা করেন, বাসায় এসে প্রিন্ট করে দিচ্ছি, কিন্তু শোনে কে! শেষে আমাকে বলে, আপনার জন্য আমার ভাই এর জীবনটা শেষ হয়ে গেলো!
এই হলাো সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে মানুষের ধারণা। কাজেই তাদের ব্যবহারে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মালিশ!
কয়েকজন আমার পেপাল একাউন্ট ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করেছেন, দেইনি বলে হয়তো মন খারাপ করেছেন। তারা হয়তো মনে করেছেন, আমি তাদের বিশ্বাস করিনি, কিন্তু তাদের ছোট্ট ভুলের কারনে আমার একাউন্ট বন্ধ হয়ে গেলে আমার কতগুলো একাউন্টের ডাইরেক্ট ডেবিট বাতিল হয়ে যাবে সেটা বোঝানো সম্ভব নয়।
পোষ্ট বিষয়ে পড়ে লিখবে। প্রথমে উল্টো আপনার কাছে দুটো প্রশ্নের উত্তর চাচ্ছি।
১। কেন আপনার মনে হলো এটি একটি ফালতু পোষ্ট।
২। কেন আপনার মনে হলো এটি আপত্তিকর হতে পারে।
কেন প্রশ্ন দুটো করলাম সেটিই উত্তর আপনার উত্তর পেলে দিবো।
একমত
এটা ফালু নয় ১০০% কাজের পোস্ট
মোটেই ফালতু পোষ্ট নয়