জন্ম হলে মৃত্যু হবেই। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যু বোধকরি কারোই কাম্য নয়। এবার কক্সবাজার গিয়ে গুপ্তখালের কবলে পরে মৃত্যুকে খুব কাছে থেকে দেখলাম। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকে কিছু লেখবার চেষ্টা করছি যা সকলের জানা উচিত।
কক্সবাজারে এই নিয়ে চতুর্থবার ভ্রমন হোল। সাম্প্রতি বিয়ের পরে এপ্রিল মাসে একবার গিয়েছিলাম। গত মাসে সস্ত্রীক দুই কাছের বন্ধু জয় এবং সাজ্জাদ সহ বান্দারবনে গেলাম। সেখানে একদিন থাকার পরে নীলগিরী যাবার প্ল্যান ছিল। কিন্তু ভারতীয় বিএসএফ প্রধান সেই দিনই সেখানে যাওয়ায় নীলগিরী যাবার সব পথ ছিল বন্ধ। তাই তড়িত সিদ্ধান্তে কক্সবাজার চলে এলাম। সেই দিন সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় আর পানিতে নামা হোল না। পরের দিন আবার বান্দারবনে যাব বলে সকাল ৬ টার দিকে ২ নাম্বার সুগন্ধা পয়েন্টে নামলাম। মোট ৪ জনের গ্রুপ যার মাঝে আমি একাই কেবল সাতার জানি না। সব কিছু ভালই চলছিল। প্রায় ১ ঘন্টা পানিতে দাপাদাপির পর এল সেই বিশেষ মুহুর্ত। বন্ধু জয় হঠাত আবিষ্কার করল একটু আগে যেখানে কোমর পানি ছিল তার ঠিক ডান দিকে যেতেই পুরো মাথা তলিয়ে যাচ্ছে। ভোলায় বড় হওয়া জয় বিষয়টি বুঝতে পারে নাই সাতরে সে জায়গাটি পার হয়ে যায় সাথে তার পিছু পিছু আরেক বন্ধু সাজ্জাদ ও পার হয়ে যায়। আমিও ওদের কাছেই ছিলাম। একটু পর আমার স্ত্রীর চিতকার শুনতে পারলাম যে-“আদনান আমাকে ধর আমি দাড়াতে পারছি না।“ আমি ভাবলাম কোমর পানিতে কি আর হবে নিশ্চয়ই ব্যালেন্স করতে পারছে না। ওর কাছে এসে টেনে তুলে এক পা সামনে আগাতেই অবাক হয়ে খেয়াল করলাম ক্রমশ আমার পায়ের নিচে থেকে বালু সরেই যাচ্ছে। ২-৩ সেকেন্ডের মধ্যেই যেখানে আমার হাটু বরাবর পানির লেভেল ছিল তা আমার মাথার উপরে উঠে গেল। অন্যদিকে আমার স্ত্রীর পরনে ছিল ফতুয়া, পায়জামা আর ওড়না। সে সাতার জানে কিন্তু সেই মুহুর্তে তার পায়জামা আর ওরনা শরীরের সাথে জড়িয়ে গেল। অন্যদিকে আমার উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি সেখানে পানির লেভেল আরো প্রায় ৬-১০ ইঞ্চি উপরে চলে যাওয়ায় আমি কোনমতেই শ্বাস নিতে পারছিলাম না। বেশ কয়েকবার পানিতে ডুবছিলাম আর ভাসছিলাম কারন আমি বিন্দুমাত্র সাতার জানি না। আমার বন্ধুদ্বয় সেই জায়গাটা পার হবার সাথে সাথেই বুঝতে পেরেছিল আমরা এদিকে আসলে বিপদে পরতে পারব তাই জায়গাটা সাতরে পার হয়ে আমাদের সতর্ক করার জন্য মুখ ঘুড়িয়েই দেখে আমি পানিতে ডুবছি আর ভাসছি। এরই মধ্যে প্রথমবার ডুব খাবার সাথে সাথেই জীবনের ভয়ংকরতম ভয় পেলাম। আমার মনে হচ্ছিল মৃত্যু অবধারিত। সাথে সাথে আবিদের মৃত্যুর কথা মনে পড়ায় আরো বেশী প্যানিক হয়ে গেলাম। আমি এই পানি খাওয়া আর বার বার ডুবে যাওয়ার মধ্যেই প্রায় ৩-৪ বার আমার বন্ধুর নাম ধরে জোরে জোরে ডাকলাম আর তীরের দিকে হাত উঠিয়ে সাহায্যের আশায় হাত নাড়ছিলাম। সেই সময় মনে হচ্ছিল আমার চিতকার বুঝি কেউ শুনছে না আর এতো সকালবেলাকেউ হয়তো আমাদের খেয়ালো করছে না। আর আমার স্ত্রী কাপরে জট লাগিয়ে সাতার পারা সত্বেও ক্রমাগত পানি খাচ্ছিল। আমাদের এই অবস্থা দেখে ভাল সাতার পারা বন্ধু জয় দ্রুত আমার স্ত্রীর কাছে আসতে থাকে আর আরেক বন্ধু সাজ্জাদ তীরের লাইফ গার্ডদের দৃষ্টি আকর্ষন করে দ্রুত আমাদের উদ্ধার করতে অনুরোধ করতে থাকে। আমাদের বেহাল অবস্থা বুঝতে পেরে একজন ফটোগ্রাফার দ্রুত তীরে তার ক্যামেরা রেখে পানিতে ঝাপিয়ে পরে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে, কর্তব্যরত লাইফ গার্ডদের একজন সার্ফিং বোর্ড নিয়েও দ্রুত নেমে যায় আর একটি কিশোর ছেলে আমাকে উদ্ধার করে। আল্লাহর রহমতে খুব দ্রুত পায়ের নিচে মাটি খুজে পাওয়ায় ক্রমাগত পানি খাওয়া থেকে দুইজনই রক্ষা পাই।
উদ্ধার পাবার পর লাইফ গার্ডের প্রথম প্রশ্ন ছিল এইদিকে গেলেন কেন? জানেন না এদিকে গুপ্তখাল আছে? পেপার পত্রিকায় এতোদিন সাগরের নিরব ঘাতক এইসব গুপ্তখালের কবলে পরে পর্যটকের মৃত্যুর খবর জেনেছি সেই দিন নিজে এর শিকার হয়ে এর ভয়াবহতাটুকু মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করলাম। এ এমন এক অভিজ্ঞতা যা থেকে সবাইকে সতর্ক না করলেই নয়।
পত্রিকা আর সিগাল হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার মারফত জানলাম প্রচন্ড প্রতিভামান কন্ঠশিল্পি আবিদের মৃত্যুর পর এবার কক্সবাজারে পর্যটকের আসা কমে গিয়েছে। ঈদের আগে ও পরের ১০ দিনে যেখানে ১০ লাখের উপরে পর্যটকের আগমন ঘটে সেখানে এবার নাকি ঈদের ৩-৪ দিনে পঞ্চাশ হাজারের মতো পর্যটক এসেছেন। আবিদের মৃত্যুর পর ভেবেছিলাম কক্সবাজারের সার্বিক ভয়াবহতার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রচুর ব্যাবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু আমার ভাবনায় ভুল ছিল-এ যে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ যেখানে অনিয়মই নিয়ম, প্ল্যানিং এর বড়ই অভাব।
পর্যটকদের নিরাপত্তা দেবার জন্য সরকার ইয়াসির লাইফ গার্ড এবং ওয়াচ বে লাইফ গার্ড নামক দুটি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এরা প্রতিবছর শত শত মানুষকে উদ্ধার করছে। কিন্তু টোটাল সিস্টেমে অনেক গলদ আছে যার কয়েকটা বলছিঃ
- ১- লক্ষ্য করুন আমরা পানিতে নামতে যাই সকাল ৬টার দিকে। এর আগের দিন খবর নিয়ে জেনেছিলাম সকাল হোল জোয়ারের সময় যা সমুদ্রে গোছলের জন্য নিরাপদ। সৈকতে গিয়ে দেখি এক দুইটি মাত্র সবুজ আর কিছু লাল পতাকা। আগের দিন প্রচুর পতাকা ছিল যার কিছুই সকালে চোখে পরে নাই। সেই ঘটনার পরে জানতে পারলাম লাইফ গার্ডরা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় ধীরে ধীরে তারা পতাকা লাগাতে থাকেন। তাহলে ভোরে সূর্যদয় দেখতে যারা আসবেন তারা যদি সাগরে নামতে চান তবে তাদের জন্য পতাকা কই? আর ২৪ ঘন্টার জন্য লাইফ গার্ডের ব্যাবস্থা করতে সমস্যা কোথায়?
- ২- গত এক বছরের মধ্যে কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট পর্যন্ত উত্তর দক্ষিনে ১০ টির মতো কয়েক শ ফুট লম্বা ৬টি গুপ্তখাল আর আড়াআড়িভাবে কয়েকটি পুকুর আকৃতির গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্ত আর খালগুলোর অস্তিত্ব ভাটার সময়ে খুব সহজেই চোখে পরে কারন পানির লেভেল সেই সময় অনেক নিচে থাকে। সরকার কি পারে না মাত্র কয়েক লাখ টাকা খরচ করে এই বিশেষ স্থানগুলোকে বাশ বা জাল বা অন্য কোন ভাবে পুরোপুরি ঘিরে দিতে? তা না করে তীরের সোজা তারা ২টি লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নত করার ব্যাবস্থা রেখেছে যা মোটেও যৌক্তিক নয়। কারন গোছলের সময় ঢেউয়ের তোরে অনেকেই ক্রমশ ডানে/বামে চলে যেতে থাকে। আমরা যেমন সুগন্ধা বীচ বরাবর সেফ জায়গায় নেমেছিলাম কিন্তু ঢেউয়ের সাথে সাথে কখন যে অনেকখানি ডানে চলে গিয়েছিলাম খেয়াল ছিল না। পরে উদ্ধার হয়ে ফেরত আসার সময় বিষয়টা চোখে পরে। তাই স্থায়ীভাবে জায়গাগুলো চিহ্নিত না করা গেলে যে কারো বিপদে পরা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
- ৩- সেই দিন বিপদ থেকে বাচার পর হোটেল সাইমনে নাস্তা করতে যাবার পর ফ্রন্ট ডেস্কে একটা লিফলেট দেখলাম যা কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে সৈকতে কিভাবে নিরাপদে গোসল করা যায়, বিভিন্ন রঙের পতাকার অর্থ কি,বিপদে পরলে কি করতে হবে-এসব বিষয়ে চমৎকার কিছু পরামর্শ ছিল। লিফলেটটি হাতে পাবার সাথে সাথে আমাদের চারজনের উপলদ্ধি ছিল এটি আগে হাতে পেলাম না কেন? কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসেন। তারা সবাই কোন না কোন হোটেলে উঠেন। প্রতিটি হোটেল আর গেষ্ট হাউসে যদি সেই লিফলেটটি দেওয়া হয় আর প্রতিটি নতুন গেষ্টের হাতে ধরিয়ে দিয়ে একবার করে হলেও পড়বার অনুরোধ করা হয় তাহলে অনেকগুলো প্রান নিঃসন্ধেহে রক্ষা পেত।
- ৪- সৈকতের জনপ্রিয় ৩টি পয়েন্ট হোল যথাক্রমে লাবনী, সুগন্ধা আর কলাতলী। এই পয়েন্টগুলোর প্রতিটি মোরেই যদি মাইকিং করে আর লিফলেট বিতরন করে পর্যটকদের সতর্ক করা যেত তবে অনেকেই পতাকার গুরুত্ব বুঝতে পেতেন। ফলে দুই লাল পতাকা বরাবর স্থানে পানির নিচে যে চোরাবালি/গুপ্তখাল আছে তা তারা জানতে পারতেন। আমাদের মতো অনেকেই দুই লাল পতাকার মানে জানেন না কারন শুধুমাত্র প্রচারনার অভাব।
- ৫- হঠাত করে কেউ কক্সবাজার গেলে অবাক হয়ে যাবেন সাড়ি সাড়ি নতুন নতুন হোটেল হচ্ছে। এসব হোটেল বানাতে প্রয়োজন পরছে বালুর। রাতের অন্ধকারে/দিনে দুপুরে সাগর থেকে বালু সরানো হচ্ছে যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন গর্ত-আবিদের মতো কত তরুন প্রান আনন্দ করতে এসে মারা যাচ্ছে। প্রশাসন কি বিষয়গুলো দেখছে?
- ৬- সৈকতে রাতের বেলা ভুতুরে অবস্থা সৃষ্টি হয়। কোথাও কোন আলোর ব্যাবস্থা নেই। সৈকতের মূল পয়েন্টগুলোয় সারা রাত আলোর ব্যাবস্থা করতে খুব বেশী কি অর্থের প্রয়োজন?
- ৭- একটা ভয়ংকর তথ্য সবাই জানুনঃ ইয়াছির লাইফ গার্ড স্টেশনের পরিচালক ও নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ডুবুরি মোস্তফা কামাল গত ১০ বছরে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে গোসল করতে নেমে ৮৫ জন পর্যটকের প্রাণহানি ও এক হাজার ২০০ জনকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকায় নিহত ৬২ পর্যটকের মধ্যে ৫১ পর্যটকের লাশ তাঁরাই উদ্ধার করেন। এই মৃত্যু আর দুর্ঘটনা থেকে আমরা কতটুকু সচেতন হয়েছি-সরকার কতটুকুই বা সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে?
আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে উপরে কিছু সমস্যা তুলে ধরলাম। এ ব্যাপারে আমার ব্যাক্তিগত কিছু সাজেশন দেইঃ
- ১- কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে দেওয়া লিফলেটটি সব হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে থাকতে হবে। যখনই কোন নতুন গেষ্ট আসবেন তার হাতে সেটি তুলে দিয়ে পড়ে দেখতে অনুরোধ জানাতে হবে।
- ২- সৈকতে এ যাবত চিহ্নিত গুপ্তখালগুলো ঘিরে দেবার ব্যাবস্থা করতে হবে। সাতার কেটে কেউ যেন বেশী দূরে না যেতে পারে সে জন্য নিরাপদ স্থানগুলো জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া যেতে পারে।
- ৩- ভাটার সময় পানিতে নামলে দন্ডের ব্যাবস্থা করা যেতে পারে।
- ৪- সৈকতের মূল পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী কোন নির্দেশমালা স্থাপন করতে হবে যা দেখে সবাই সতর্ক হতে পারে।
- ৫- তীর থেকে দূরে বোটে করে টঠল দেবার ব্যাবস্থা করতে হবে যাতে সবাইকে সহজে নিরাপদ স্থানে থাকতে সতর্ক করা যায় আর কেউ বিপদে পরলে দ্রুত উদ্ধার করা যায়।
- ৬- একেবারে সাতার যারা জানেন না তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের পরিমান বাড়াতে হবে। বেসরকারিভাবে যারা লাইফ জ্যাকেট/টিউব সরবরাহ করেন তাদের অতিরিক্ত চার্জের কারনে অনেকেই লাইফ সেভিং এসব জিনীস ব্যাবহারে উতসাহ বোধ করেন না।
- ৭- ২৪ ঘন্টা গার্ডের ব্যাবস্থা রাখতে হবে। বর্তমান ব্যাবস্থায় খুব ভোরে/সন্ধ্যার পরে কেউ সৈকতে আসলে তার নিরাপত্তার জন্য কেউ থাকে না। ডুবুরি আর গার্ডের সংখ্যায় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল যা বাড়ানো প্রয়োজন।
- ৮- রাতের বেলা মূল পয়েন্টগুলোতে লাইটের ব্যাবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে এনার্জি সেভিং লাইট লাগানো যেতে পারে।
কক্সবাজারে নিজে, সপরিবারে বা বন্ধুবান্ধব সহ যারা আসতে চান তাদের জন্য কিছু পরামর্শঃ
- ১- পানিতে নামবার আগে অবশ্যই জোয়ার ভাটা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিবেন।ভাটার সময় পানিতে নামবার চিন্তা ভুলেও মাথায় আনবেন না।
- ২- দুই লাল পতাকা মানেই হোল পতাকার অবস্থানের সোজা বরাবর গুপ্তখাল আছে। দুই পতাকা চিহ্নিত স্থান থেকে শত হাত দূরে থাকুন।
- ৩- পানিতে নেমে প্রাইভেসি খুজতে জাবেন না। যতোটুকু সম্ভব অনেক মানুষের সাথে পানিতে নামুন। যে কোন বিপদে সাহায্য পাবেন।
- ৪- অনেক তরুন পানিতে নেমে বড্ড এ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে পরেন-নিজের জীবন কে তুচ্ছ জ্ঞ্যান করেন। একটু ভেবে দেখুন যে বাবা মা আপনাকে জন্ম দিয়েছেন তাদের কতটুকু ফেরত দিয়েছেন। নিজের জীবনকে ঝুকিতে ফেলার আগে নিজের আপনজনের কথা আরেকবার চিন্তা করে দেখুন।
- ৫- ছোট বাচ্চারা সাথে থাকলে প্রতিটি মুহুর্ত তাকে চোখে চোখে রাখুন। আপনার মুহূর্তের অসতর্কতা তার বড় ধরনের বিপদের কারন হতে পারে।
- ৬- একদম সাতার না পারলে হাটু পানির বেশী এগুবেন না। সম্ভব হলে লাইফ জ্যাকেট/টিউব ভাড়া করুন।
- ৭- আমার আপনার নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত লাইফ গার্ডদের নির্দেশ মেনে চলুন। মনে রাখবেন আমার আপনার থেকে তারা সমুদ্রের বিপদ সম্পর্কে অনেক ভাল জানেন,বুঝেন।
- ৮- বিপদে মাথা যতটুকু সম্ভব ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করুন। সর্বদা লাইফ গার্ডদের সাহায্য নিন।
- ৯- মেয়েরা সালোয়ার,কামিজ আর ওড়না পরে পানিতে নামতে যাবেন না। কাপড়ে জট লেগে বিপদে পরার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে।
- ১০- খুব ভোরে/সন্ধার পর পানিতে নামবেন না। সবকিছু জেনে বুঝে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই পানিতে নামুন।
প্রতি দিন হাজার হাজার নতুন পর্যটকে মুখর হয়ে উঠে কক্সবাজার। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতে হাংগর বা অন্য কোন জলজ প্রানী হানা দেয় না বলে এতো দিন এটি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।নিত্যনতুন হোটেলের নির্মান বলে দেয় ভ্রমনের স্থান হিসেবে কক্সবাজার আজো কতটুকু আকর্ষনীয়। আমরা চাই না আমাদের গর্ব এই সৈকতে কেউ এসে প্রান হারাক। আমি আর আমার স্ত্রী বেশ ভাগ্যবান হওয়ায় আল্লাহোর রহমতে বেচে গেছি-আমাদের মতো সৌভাগ্য অনেকের নাও হতে পারে। বেচে আছি বলেই আমার পক্ষে আজ এই লেখা লিখা সম্ভব হচ্ছে। সবার কাছে অনুরোধ কক্সবাজারে ভ্রমনের আগে নিজে সতর্ক হোন-অন্যকে সতর্ক করুন। কক্সবাজার সৈকত এখন সত্যিকার অর্থেই অনেক অনেক বেশী ঝুকিপূর্ন। আবিদের পরিচিতির কারনে গুপ্তখালের বিষয়টি এখন যেভাবে প্রচার পাচ্ছে এর আগে ততোটা পায় নি-অথচ বেশ কবছর ধরেই দুর্ঘটনার পরিমান কিন্তু বেড়েই চলছিল। হয়তো হোটেল ব্যাবসায়ীদের চাপে এসব খবর জাতীয় পত্রিকাগুলোর পাতায় আসে না বা আসলেও অনেকের চোখে পরে না। তাই সার্বিকভাবে সবার সচেতনতা একান্তই প্রয়োজন।
সেই দিন বেচে যাবার সাথে সাথেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কক্সবাজারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আজকের এই লেখা সেই প্রয়াসের অংশ মাত্র। লেখাটি শেয়ার করে/লেখার বিষয়বস্তু সবাইকে জানিয়ে আমার প্রচেষ্টা সার্থক করবেন-সবার কাছে এই প্রত্যাশা।
সোর্সঃ
- http://teknafnews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=526:2011-07-31-16-09-48&catid=43:2011-07-06-09-25-47&Itemid=62
- http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-13/news/185198
- http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-05/news/183045
- http://www.unsnewsbd.com/bangla/head_news4.php?head_id=228
- http://www.teknafnews.com/index.php?option=com_content&view=article&id=1409:2011-09-13-10-01-23&catid=40:2011-06-29-08-05-01&Itemid=59
- http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-29/news/173978
এই ধরনের আরোও কিছু পোস্ট:
- [আমার নেতা] লজ্জা পাই যখন নিজের অক্ষমতার মুখোমুখি হই, আর আপনাদের দেখে অনুপ্রানিত হই
- [অতিথি পোস্ট] ফ্রিল্যান্সিং পর্ব ২: কিভাবে প্রোফাইল তৈরী করবেন এবং প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করবেন
- Happy New Year 2011
- মন্তব্য সাবধান: আজকাল পোস্টের পাশাপাশি মন্তব্যও বোধহয় চুরি হচ্ছে
- [আমার নেতা] আকলু মিয়ার জাদু-ফল – বিদেশফেরত এক দেশপ্রেমিকের সফল কাহিনী
- আর্টিকেল / ব্লগ লেখার জন্য নয়টি গোপন টিপস – আগে আসলে আগে পাবেন, পরে আসলে ধরা খাবেন
- কেন অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিজয় দিবসে ব্লগ পোষ্ট করলাম?
- দুনিয়ার তাবৎ সংবাদমাধ্যমে আজ বাংলাদেশ এক নম্বরে

{ 17 comments… read them below or add one }
I am speechless. But, you are doing a great job, which is our duty too. When, I was in Seagull, every time I tried to notify about this matter with guests. And, I can’t forget that day. That was a very awful day in my life. Thanks to Almighty Allah, for that day, who saves not only two lives but also two more life.
আদনান ভাই আপ্নের মেইল এড্রেস টা দিলে ভাল হত। আপনার কাছ থেকে একটা ব্যপার জানতে হবে shafik21bc@gmail.com এটাতে একটা মেইল পাঠাবেন
ভাই http://www.mediafire.com/bdblogger এই লিঙ্ক কাজ করে না
কোন ভাষা নেই মন্তব্য করার … তবে এইটুকু বলবো আল্লাহ কাছে শুকরিয়া অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এই লেখাটি অনেক কাজে লাগবে অনেকেরই তাই ফেসবুকে শেয়ার করলাম।
ভাল থাকবেন সব সময় আর রইল শুভকামনা।
ভাই কিছু মনে কইরেন না একমাত্র বাংলাদেশীদের এইধরনের আদাইখল্যা স্বভাব আছে সমুদ্র দেখলেই তিরিংবিরিং করে নেমে যাওয়া।আমার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে বহু সী-বীচে গিয়েছি কিন্তু বাংলাদেশীদের মত গনহারে গোসল করতে নামতে দেখি নাই বরং সমুদ্রের তীরে বসে সুখীসময় কাটাতে দেখেছি।ধন্যবাদ আপনার লেখনিতে এই বিষয়টা তুলে আনার জন্য।
ও মাই গড এই অবস্থা।তুমি একটা ভালো কাজ করেছ এই পোস্ট দিয়ে ।এখন শুধু আমরাই না যারা কক্সবাজারে যাবে তাদেরও সতর্ক করা যাবে।আর বিয়ের খবরটা শুনে ভালো লাগলো।কনগ্রাটস…..
পইড়াতো আমার গা শিউরে উঠলো।
মহতি উদ্যেগ এর জন্য ধন্যবাদ।
আমি গত বছরে গিয়েছিলাম এরকম কথা শুনেছিলাম। তাই ১নং বীচ ছাড়া কোথাও যায়নি। আপনার কাহিনীটা পড়ে খারাপ লাগলো যাই হোক বেচে ফিরেছেন এটাই ভালো।
সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমি পোষ্ট টি শেয়ার করতে চাই আপনি যদি অনুমতি দেন
লেখাটার এই লিঙ্ক সহ যতোজায়গায় পারুন শেয়ার করুন। কৃতজ্ঞ থাকব…
thanks vaia eto sundor vabe explain korar jonno…specially apnar advice er 3rd point ta khub e effective mone hoyese amr…”privacy concern” er point ta…many many thnx for the post…
Allah’r beses krepai ai bar er moto becha galen ADNAN vi O amader vabe. Ame o to satar jane na. Tahole ki amar sea beach a jawa thik hobe na?
হায় হায়!! আমিও তো সাতার জানি না।
ধন্যবাদ… আদনান ভাই। অতি প্রয়োজনীয় বিষয় শেয়ার করার জন্য।
কক্সবাজার অতি অখাদ্য জায়গা ভাই, একবার গিয়েই শখ মিটে গিয়েছিল। আল্লাহ আপনাকে অনেক বর বিপদের হাত থেকে বাচিয়েছেন। পৃথিবীর সবচে বড় সমুদ্র সৈকত এখন এক মৃত্যুফাদে পরিনত হয়েছে। ভালো করে খেয়াল করে দেখেন, এটা কিন্তু প্রকৃতিরই সিস্টেম। প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দিয়ে প্রকৃতির কাছে নিরাপত্তা আশা করাটাই বোকামি।এম্নিতেও কক্সবাজার আমার ভালো লাগে না,আপনার লেখা পড়ে আরো সাবধান হয়ে গেলাম।
গা শিউরে উঠলো আপনার কাহিনী পড়ে। সত্যিই বড় ভাগ্যবান আপনারা। আসলে পানিতে নামার পর আনন্দে অনেকেরই হুশ-জ্ঞান থাকে না- নিজ অভিজ্ঞতায় দেখেছি। আমি অনেককেই দেখেছি- পানির ২০-৩০ গজ দূরে থাকতেই মানুষগুলোর মাথা খারাপ হয়ে যায়। দৌড়ে গিয়ে সাগরে ঝাপটে পড়ে। তারপর ওরা যে কি করে না করে তার ঠিক নেই। কোথায় কি সিগন্যাল আছে, তা দেখার সময় কোথায় ওদের?
যাই হোক, আদনান ভাইকে ধন্যবাদ চমৎকারভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করার জন্য। আর সবার প্রতি একটা অনুরোধ- যদি মাত্র একবারই সৈকতে যেতে চান, তাহলে সবকিছু না জানলেও চলবে। যেভাবে ইচ্ছে সাগরে ঝাপাঝাপি করুন তারপর ডুবে……….. আর যদি বারবার যেতে চান তাহলে একটু সতর্ক হোন সবাই। সবার জন্য শুভকামনা…
গা শিউরে উঠলো পোষ্টটি পড়ে, সত্যি বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন আদনান ভাই। আমার কিছুদিনের মধ্যেই যাবার প্লান আছে, সতর্ক হলাম আগে থেকেই।কিন্তু এত ঝুকি খাকা সত্বেও কেউই কোন ব্যবস্তা নিচ্ছেনা কেন? ঔ জায়গা গুলো চিহ্নিত করা দরকার।
গুপ্তখাল বরাবর দুই লাল পতাকা টাংগিয়ে দিয়েই সব দায়িত্ব শেষ বলে মনে করছে। অথচ কয়েক লাখ টাকা খরচ করলেই ঝুকির মাত্রা কমানো যেত যা লেখায় উল্লেখ করেছি। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।